আমতলীতে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসে ২ জনের মৃত্যু, উদ্ধার করতে গিয়েও প্রাণ গেল একজনের
- আপডেট সময় : ০২:৪০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে

আমতলী, বরগুনা | ৩ জুন ২০২৬ : বরগুনার আমতলী উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন রাজমিস্ত্রী এবং অপরজন তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারানো স্থানীয় ওয়ার্কশপ মালিক। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. ইউসুফের নির্মাণাধীন ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন রাজমিস্ত্রী জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার (৪২) এবং ওয়ার্কশপ মালিক জাফর হাওলাদার (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনের মাটির নিচে নির্মিত সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করেন রাজমিস্ত্রী জাহিদুল ইসলাম। কিছুক্ষণ পর ট্যাংকের ভেতর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ ও সাড়া না পাওয়ায় তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে যান স্থানীয় ওয়ার্কশপ মালিক জাফর হাওলাদার। কিন্তু তিনিও ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশের পর অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ভেঙে দুইজনকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধ হয়ে অথবা বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বা অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচলযুক্ত সেপটিক ট্যাংকে মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস জমে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নির্মাণাধীন ভবনের মালিক মাওলানা মো. ইউসুফকে এলাকায় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণকাজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।














