প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে রিসোর্ট ও সুইমিং পুলে মানুষের ঢল, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
কালিয়াকৈরে তীব্র তাপপ্রবাহে পর্যটন কেন্দ্র ও ওয়াটার পুলে উপচেপড়া ভিড়, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
- আপডেট সময় : ১১:১৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ৭৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর, কালিয়াকৈর | ২ জুন ২০২৬ : দেশজুড়ে চলমান মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন স্বস্তির খোঁজে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট ও ওয়াটারফ্রন্ট পুলে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে শিশু, কিশোর, তরুণ এবং বয়স্করা ভিড় করছেন এসব বিনোদন কেন্দ্রে।
সরেজমিনে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, মৌচাক, মধ্যপাড়া ও সফিপুর এলাকার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অধিকাংশ সুইমিং পুল ও ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় মানুষের ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।
অনেককে পরিবার-পরিজন নিয়ে পুলে গোসল করতে দেখা যায়। কেউ সাঁতারের পোশাকে, আবার কেউ সাধারণ পোশাক, গামছা কিংবা লুঙ্গি পরে পানিতে নেমে গরমের কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করছেন।
মৌচাক এলাকার বাসিন্দা আলামিন হোসেন বলেন, “দুইদিন ধরে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। ফ্যান চললেও গরম কমে না। বাচ্চারাও অস্থির হয়ে উঠেছিল। তাই পুলে নিয়ে এসেছি। কিছুক্ষণ পানিতে থাকার পর এখন একটু স্বস্তি লাগছে।”
হঠাৎ করে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিনোদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। কয়েকটি পুলে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি মানুষ একসঙ্গে গোসল করছেন। এতে একদিকে যেমন পানির গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অধিকাংশ পুলে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফগার্ড নেই। ১৫০ থেকে ২০০ জন দর্শনার্থীর জন্য মাত্র একজন বা দুজন লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের গভীর পানিতে নেমে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
একটি রিসোর্টের কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতিদিন এক থেকে দুই হাজারের বেশি মানুষ আসছেন। আমাদের জনবল সীমিত। মাইকিং করে সতর্ক করা হলেও অনেকেই নির্দেশনা মানছেন না।”
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত পুল ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক মেডিকেল অফিসার জানান, অতিরিক্ত ভিড়ের পুলে গোসল করলে চর্মরোগ, ফাঙ্গাল সংক্রমণ এবং চোখের কনজাংটিভাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া অনেক সময় পানিতে অস্বাস্থ্যকর আচরণ সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি করে।
তিনি বলেন, “পুল ব্যবহারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে গোসল করা উচিত। পুলের পানি যথাযথভাবে ক্লোরিনযুক্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন পান করতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।”
আবহাওয়ার তীব্রতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েকদিনেও কালিয়াকৈরের পর্যটন কেন্দ্র ও ওয়াটারফ্রন্ট পুলগুলোতে দর্শনার্থীর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।














