যশোরে জমিজমা বিরোধে বড় ভাইকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বৃদ্ধ
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

যশোর | ৩১ মে ২০২৬ : যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামে জমিজমা ও বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় ভাইকে লাঠিসোটা দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঈদুল আজহার পরদিন শুক্রবার সকালে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত সায়েদ আলী (৬৫) বর্তমানে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে সায়েদ আলী ও তার ছোট ভাই আব্দুল্লাহ ওরফে ফড়িং (৪৮)-এর মধ্যে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা ও জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধ নিরসনে ঈদের আগেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান, সমাজসেবক শওকত আলী, খুঁজিবার রহমান ও আনিসুর রহমানসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে ঈদের আনন্দমুখর পরিবেশ কাটতে না কাটতেই বিরোধ আবারও সহিংস রূপ নেয়।
আহত সায়েদ আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “ঈদের পরদিন সকালে আমার চাচা আব্দুল্লাহ ওরফে ফড়িং, গোলাম রসুল ও চাচাতো ভাই শাওন হোসেন আমাদের বাড়িতে এসে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।একপর্যায়ে তারা আমার বাবার ওপর হামলা চালায়। চাচা ফড়িং লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার মাথা ফেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি।”
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩৭ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন সায়েদ আলী।
মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অনুপ কুমার বসু জানান, “রোগীর মাথায় গুরুতর আঘাতজনিত জখম হয়েছে। ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, “ঈদের আগে আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পরে এমন ঘটনা ঘটায় আমরা মর্মাহত। পারিবারিক বিরোধ কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে না।”
এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি মিজানুর রহমান বলেন, “একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে এমন রক্তাক্ত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সামান্য রাস্তার বিরোধ একজন বৃদ্ধ মানুষকে হাসপাতালের বেডে পৌঁছে দিয়েছে।”
সমাজের প্রবীণ ব্যক্তি শওকত আলী বলেন, “জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘর্ষ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে সহনশীল হতে হবে।”
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ওরফে ফড়িং বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, “ঘটনার বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”














