সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ মাছ সংরক্ষণে বরফ সরবরাহের অভিযোগে বাঁশখালীর শেখেরখীল এলাকায় মোবাইল কোর্টের অভিযান
বাঁশখালীতে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য: শেখেরখীলে আইস ফ্যাক্টরিকে জরিমানা, বিচ্ছিন্ন করা হলো বিদ্যুৎ সংযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম | ২৫ মে ২০২৬ : বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের জারি করা ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
অভিযানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে শেখেরখীল এলাকার একটি আইস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং কয়েকটি বরফ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দিনব্যাপী পরিচালিত এ মোবাইল কোর্ট অভিযানে অংশ নেয় বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সমন্বিত টিম। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন জলকদর খালের মোহনা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত ১৫ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ও অবৈধ মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই প্রশাসনের এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে সাগরে অবৈধভাবে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত কোনো চক্রকে আটক করা সম্ভব না হলেও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জলকদর খালের তীরবর্তী একাধিক বরফ উৎপাদন কারখানায় তল্লাশি চালানো হয়।
এ সময় শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখ এলাকায় অবস্থিত ‘মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরি’-তে অভিযান চালিয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যের বিভিন্ন প্রমাণ পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নির্ধারিত মানমাত্রার পানি ব্যবহার না করে বরফ উৎপাদন করছিল। এছাড়া নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধভাবে আহরিত সামুদ্রিক মাছ সংরক্ষণে এসব বরফ সরবরাহ করা হচ্ছিল বলেও প্রমাণ পাওয়া যায়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত মালিকপক্ষ বরফ সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ অপরাধে মালেক শাহ্ আইস ফ্যাক্টরিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় অভিযুক্ত বরফ কারখানাসহ আশপাশের আরও কয়েকটি বরফ উৎপাদন কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে অবৈধ কার্যক্রম চালানো না যায়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. তৌসিব উদ্দিনের প্রসিকিউশনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।














