এএফসি ও বাফুফের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাসরুট ফুটবল ডে; অংশ নিল ৯ উপজেলার ১৬৫ জন ক্ষুদে ফুটবলার
কুড়িগ্রামে এএফসির ‘গ্রাসরুট ফুটবল ডে-২০২৬’ উদযাপন, জেলা স্টেডিয়ামে ক্ষুদে ফুটবলারদের মিলনমেলা
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম | ২৩ মে ২০২৬ : এশিয়ার ফুটবলের ভিত্তি শক্তিশালী করতে এশিয়া ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এর উদ্যোগে কুড়িগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘গ্রাসরুট ফুটবল ডে-২০২৬’। শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ক্ষুদে ফুটবলারদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বেবু এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া সংগঠক জালাল হোসেন লাইজু, ফুটবলার ওয়াজেদ আলী ঝিনুক, জহুরুল হক কামাল, ক্রীড়া সংগঠক সাইদুল আবেদীন ডলার, আশিক ইকবাল রাব্বীসহ জেলার ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা বলেন, গ্রাসরুট ফুটবলই দেশের ফুটবলের মূল ভিত্তি। শিশু ও কিশোরদের নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের দক্ষ ফুটবলার তৈরি করা সম্ভব হবে। তারা আরও বলেন, মাঠভিত্তিক খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও দলগত মনোভাব গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ নাজির হোসেন বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশুদের মাঠমুখী করা অত্যন্ত জরুরি। খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ, মেধাবী ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, জেলার ফুটবলকে এগিয়ে নিতে তৃণমূল পর্যায়ে এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। ক্ষুদে খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হলে কুড়িগ্রাম থেকেও জাতীয় পর্যায়ের ফুটবলার তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডেভেলপমেন্ট কমিটির সদস্য সামিদ কাশেম বলেন, দেশের ফুটবলের উন্নয়নে গ্রাসরুট কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এএফসি ও বাফুফের যৌথ উদ্যোগে শিশুদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলার মোট ১৬৫ জন ক্ষুদে ফুটবলার এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছেলে ১১৫ জন এবং মেয়ে ৬৫ জন। ক্ষুদে খেলোয়াড়দের ফুটবল নৈপুণ্য, আনন্দঘন অংশগ্রহণ ও ক্রীড়া উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে জেলা স্টেডিয়াম।
আয়োজকরা জানান, গ্রাসরুট ফুটবলের মাধ্যমে শিশুদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতের ফুটবল প্রতিভা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। কুড়িগ্রামে এ আয়োজন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।














