জানালার গ্রিল কেটে ও সিঁধ কেটে সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তাণ্ডব, পুলিশের টহল বাড়লেও স্বস্তি নেই জনমনে
পাঁচবিবিতে চুরির আতঙ্ক চরমে: এক মাসে ১০টির বেশি দূধর্ষ চুরি, গবাদিপশু ও স্বর্ণালংকার লুট
- আপডেট সময় : ০৫:৪৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট | ২০ মে ২০২৬ : পাঁচবিবি উপজেলা জুড়ে থামছেই না দূধর্ষ চুরি। সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলায় গত এক মাসে অন্তত ১০টিরও বেশি বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। গ্রামে গ্রামে রাতের পাহারা জোরদার করা হলেও জানালার গ্রিল কেটে, সিঁধ কেটে ও গোয়ালঘরে ঢুকে সংঘবদ্ধ চোরচক্র গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে নিয়মিতভাবে। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, প্রায় সব চুরির ধরন একই রকম—জানালার গ্রিল কাটা বা সিঁধ কেটে প্রবেশ। এতে স্থানীয়দের মনে সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক পরিবার এনজিও ঋণ নিয়ে গরু-ছাগল লালন-পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছিলেন; কিন্তু সেই সম্বল হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।
সর্বশেষ মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে পাঁচবিবি পৌরসভার মালঞ্চা হঠাৎপাড়া গ্রামে মোশারফ হোসেনের ছেলে বিপুল হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ২টি ফ্রিজিয়ান গাভী ও ২টি বাছুর এবং তার ভাই তাইবুর রহমানের বাড়ি থেকে ১টি গাভী চুরি হয়। আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
এর আগে ২৩ এপ্রিল পাটাবুকা গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়ি থেকে একটি ফ্রিজিয়ান গাভী, ২৫ এপ্রিল ঢাকাইয়া পট্টি মহল্লায় ইতি রানীর বাড়ি থেকে ৩টি বিদেশি জাতের গরু, ২৯ এপ্রিল সীমান্তবর্তী ভীমপুর গ্রামে আফজাল হোসেনের গোয়ালঘর থেকে ৭ লাখ টাকার ৩টি গাভী ও একটি বাছুর চুরি হয়।
৪ মে নন্দীগ্রাম হিন্দুপাড়া গ্রামে কমল চন্দ্রের বাড়ি থেকে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ, নগদ ২ লাখ টাকা ও কাঁসার বাসনপত্র চুরি হয়। একই রাতে দমদমা মহল্লায় পাঁচবিবি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ঈশিতা আকতারের বাসা থেকে স্বর্ণ, রুপার গহনা, ল্যাপটপ ও নগদ অর্থ লুট হয়। ৫ মে নাকুড়গাছী মহল্লায় লাভলু মন্ডলের গোয়ালঘর থেকে ২টি হালের বলদ চুরি হয়। ১৪ মে ছোট মানিক গ্রামে লিপি বেগমের বাড়ি থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ চুরি হয়। ১৯ মে কুসুম্বা ইউনিয়নের চিকনমাটিয়া গ্রামে একাধিক বাড়িতে গ্রিল কেটে প্রবেশের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর ধাওয়ায় চোরেরা পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী লাভলু মন্ডল বলেন, “আমার একমাত্র আয়ের উৎস দুটি বলদ চুরি হয়েছে। থানায় অভিযোগ দিয়েও কোনো অগ্রগতি দেখছি না।”
স্থানীয় সমাজসেবক আমজাদ হোসেনের মতে, মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার চুরি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
এ বিষয়ে পাঁচবিবি থানা-এর অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাফিজ মোঃ রায়হান জানান, চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। টহল বৃদ্ধি ও জনসচেতনতা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত চোরচক্র শনাক্ত, নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে পাঁচবিবিতে চলমান চুরির আতঙ্ক থেকে মানুষ মুক্তি পায়।














