লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজার ৩২ একর জমি নিয়ে বিরোধ, আদালতের রায় দেখিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
আশাশুনিতে জমি দখল ব্যর্থ হয়ে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৮:২৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

আশাশুনি, সাতক্ষীরা | ১৮ মে ২০২৬ : হারি (ইজারা) নেওয়া জমি অবৈধভাবে দখল করতে না পেরে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে আশাশুনি প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া গ্রামের মৃত ছহিল উদ্দিন মল্লিকের ছেলে হাসান শাহরিয়া রিপন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি সাতক্ষীরা জেলা তাঁতীদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কাজ করছেন। শ্রীউলা ইউনিয়নের লাঙ্গলদাড়িয়া মৌজায় ডিএসএ খতিয়ানভুক্ত মল্লিক পরিবারের প্রায় ৩২ একর জমি এসএ খতিয়ানে ভুলবশত ১/ক খতিয়ানভুক্ত হয়। এ সম্পত্তির মালিকরা প্রায় ৬ একর জমি আশাশুনি সদরের বাসিন্দা রাজু আহমেদ পিয়ালকে মাছ চাষের জন্য বার্ষিক ইজারা দেন।
ওই ৬ একরের মধ্যে ২ একর জমি রাজু আহমেদ পিয়ালের কাছ থেকে মৌখিক চুক্তিতে ইজারা নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম গং ১৪–১৫ বছর ধরে ইজারার টাকা পরিশোধ করে মাছ চাষ করে আসছিল বলে দাবি করা হয়। সম্প্রতি তারা উক্ত সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা শুরু করে। এ ঘটনায় আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করেও দখল নিতে ব্যর্থ হয়ে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।
গত মঙ্গলবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব-এর সামনে কথিত ভূমিহীন পরিচয়ে মানববন্ধন করে হাসান শাহরিয়া রিপন ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টুর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
হাসান শাহরিয়া রিপন বলেন, উক্ত জমির মালিকদের মধ্যে তিনি নিজে, উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শ্রীউলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মল্লিক আবু মুসা মাস্টার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল মালেক মল্লিক, মো. খোরশেদ আলমসহ বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতার পৈত্রিক মালিকানা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এসএ খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য সহকারী জজ আদালতে ৬৮/৯৪ নম্বর মামলা করা হয় এবং আদালত তাদের পক্ষে রায় দেন। সরকারের আপিলের পর জেলা জজ আদালতেও একই রায় বহাল থাকে। বর্তমানে বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি চলমান থাকায় এ জমিতে ডিসিআর প্রদান আইনসম্মত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় উপস্থিত বিএনপি নেতাদের সামনে এসি (ল্যান্ড) রাশেদ হোসাইন মৌখিকভাবে ডিসিআর প্রদানের ভুল স্বীকার করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করলেও সম্প্রতি অবৈধ দখলের চেষ্টা করে একটি পক্ষ। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তারা বৈঠকে উপস্থিত হয়নি। এমনকি থানা পুলিশের ডাকে সাড়া দেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত মালিকদের জমি ফেরত দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।














