সংগ্রামই মানুষকে করে বাস্তববাদী ও মানবিক—বিশেষজ্ঞদের মতামত
সুখ নয়, সংগ্রামই মানুষকে শক্ত করে — রাজিবুল করিম রোমিও
- আপডেট সময় : ১০:০০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

“একটু অভাবে বড় হওয়াই ভালো”—এমন এক গভীর জীবনবোধসম্পন্ন বক্তব্য দিয়েছেন লেখক রাজিবুল করিম রোমিও, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই ভাবনা কেবল একটি উক্তি নয়, বরং মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
জীবনের পথচলায় স্বাচ্ছন্দ্য যেমন মানুষকে নিরাপদ রাখে, তেমনি অভাব ও সংগ্রাম মানুষকে বাস্তবতা শেখায়। যারা শৈশব বা জীবনের কোনো পর্যায়ে অভাবের মধ্যে দিয়ে বড় হয়, তারা খুব কাছ থেকে কষ্ট, ক্ষুধা, অপমান ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এই অভিজ্ঞতাই তাদের মনকে করে তোলে সংবেদনশীল এবং সহানুভূতিশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভাব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে। একজন অভাবী মানুষ সহজেই অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করতে পারে। কারণ সে জানে, কষ্ট কাকে বলে। ফলে সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতা গড়ে তুলতে এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই প্রসঙ্গে লেখক উল্লেখ করেন, “যার পেটে ক্ষুধার জ্বালা লেগেছে, সে অন্যের খালি থালা দেখে চুপ থাকতে পারে না।” এই বক্তব্যটি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে—অভাব মানুষকে শুধু শক্তই করে না, বরং তাকে করে মানবিক।
এছাড়া, অভাব মানুষের জন্য এক ধরনের ‘মানুষ চেনার মাপকাঠি’ হিসেবেও কাজ করে। সুসময়ে যারা পাশে থাকে, তাদের আসল পরিচয় বোঝা যায় দুঃসময়ে। এই বাস্তবতা সমাজে সম্পর্কের গভীরতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, অভাব মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। ছোট ছোট জিনিস—এক টুকরো খাবার, বিশুদ্ধ পানি কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবের মূল্য উপলব্ধি করতে পারে কেবল সেই ব্যক্তি, যিনি কখনো এগুলোর অভাব অনুভব করেছেন।
অন্যদিকে, যারা সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে ওঠে, তাদের অনেকেই জীবনের কঠিন দিকগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যায়। ফলে তাদের মধ্যে সহানুভূতি ও বাস্তববোধ তুলনামূলক কম দেখা যায়।
সামাজিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভাব মানুষকে ভেতর থেকে পরিণত করে। যেমন সোনা আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, তেমনি মানুষও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী, বাস্তববাদী এবং মানবিক হয়ে ওঠে।
এই উপলব্ধির আলোকে বলা যায়—অভাব শুধু কষ্ট নয়, এটি এক ধরনের শিক্ষা, যা মানুষকে জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে সাহায্য করে।














