নির্ধারিত সময়সূচি ছাড়া লোডশেডিংয়ে স্থবির জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
লোহাগড়ায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট: দিনে ২৪ ঘণ্টায় ২–৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ, জনজীবন বিপর্যস্ত
- আপডেট সময় : ১০:৫১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। হঠাৎ লোডশেডিংয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ধর্মীয় কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করা হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে তা নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছে না। অনলাইন ক্লাস ও ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
এছাড়া মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নামাজ ও অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ছোট ব্যবসা, দোকানপাট ও স্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় আর ফিরছে না। এতে করে রান্নাবান্না, পানি সরবরাহ ও দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
পানির সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর নলকূপ ও পানির পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে লোহাগাড়া উপজেলায় এই বিদ্যুৎ সংকট মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং একটি স্বচ্ছ লোডশেডিং সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।














