ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ, কষ্টার্জিত সঞ্চয় ফেরতের দাবিতে বন্ধ ৪০টি মিল
পটিয়ায় লবণ শ্রমিকদের সঞ্চয়ের ৩ কোটি টাকা নিয়ে ক্যাশিয়ার পলাতক, বন্ধ ৪০ মিলের উৎপাদন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬ ৬৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ইন্দ্রপুল লবণ শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের সঞ্চয়ের প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার পলাতক হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রায় ৪০টি লবণ মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইন্দ্রপুল এলাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি লবণ কারখানা নিয়ে একটি বড় লবণ শিল্প অঞ্চল গড়ে উঠেছে। এখানে হাজার হাজার পুরুষ ও নারী শ্রমিক কাজ করেন। শ্রমিকদের কল্যাণ ও আর্থিক সহায়তার জন্য ২০২৪ সালে “ইন্দ্রপুল জনকল্যাণ সমিতি” প্রতিষ্ঠা করা হয়।
এই সমিতির মাধ্যমে শ্রমিকরা দৈনিক সঞ্চয়, ঋণ গ্রহণ এবং শেয়ার সঞ্চয়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রতি বছর ২০ রমজানে শ্রমিকদের জমাকৃত অর্থ লাভসহ ফেরত দেওয়া হয়, যা দিয়ে তারা ঈদের খরচ মেটান।
কিন্তু চলতি বছর ২০ রমজানে টাকা উত্তোলনের জন্য শ্রমিকরা সমিতির কার্যালয়ে এসে জানতে পারেন, সমিতির ক্যাশিয়ার শামীম প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে পলাতক হয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অসহায় শ্রমিকদের মধ্যে কান্না ও হতাশা দেখা দেয়। অনেক শ্রমিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বুধবার (১১ মার্চ) থেকে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। ফলে ইন্দ্রপুল শিল্প এলাকার প্রায় ৪০টি লবণ মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা কাজে ফিরবেন না।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের ফোঁটা ফোঁটা ঘামের উপার্জিত টাকা দিয়ে পরিবারের স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সমিতির সভাপতি নাজিম ও ক্যাশিয়ার শামীমের যোগসাজশে এই ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। শ্রমিকদের মতে, প্রয়োজন হলে সভাপতির মালিকানাধীন দুটি মিল বিক্রি করে হলেও তাদের টাকা পরিশোধ করতে হবে।
জানা গেছে, অনেক শ্রমিকের ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকরা কারখানার কাজ বন্ধ রেখে এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। এতে পুরো শিল্প এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানা-র ওসি জিয়াউল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














