ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, অপমৃত্যু মামলা দায়ের; পরিবার বলছে হত্যা, অভিযুক্ত স্বামী পলাতক
কটিয়াদীতে স্কুলছাত্রী স্মৃতির রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

এ.এস.এম. হামিদ হাসান |
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় স্কুলশিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি (১৬)-র রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটিকে আত্মহত্যা বললেও নিহতের পরিবারের দাবি—এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার স্মৃতি ও বাবুল মিয়ার ছেলে আকরাম হোসেন (১৯) একই স্কুলে পড়াশোনা করতেন। সহপাঠী হওয়ার সুবাদে প্রায় এক বছর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষকরা একাধিকবার তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩ জুন ২০২৫ তারিখে আকরাম হোসেনের ডাকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় স্মৃতি। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পরে তারা নিজেরাই বিয়ে করে আকরামের বাড়িতে বসবাস শুরু করে। তবে স্মৃতির পরিবার বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি।
এদিকে গত ৪ মার্চ ভোরে আকরামের বাড়ি থেকে স্মৃতির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।
লোহাজুরী পূর্বচর পাড়াতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ এম মহিবুর রহমান বলেন, “স্মৃতি ও আকরাম দুজনই ভালো শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল, আমরা শিক্ষকরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে স্মৃতির মৃত্যুকে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”
নিহত স্মৃতির ফুফু তামজিমা আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, “প্রায় আট মাস আগে আমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্মৃতিকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়। আমরা তখন থানায় অভিযোগ করেছিলাম। এখন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। ঝুলন্ত মরদেহে আত্মহত্যার মতো কোনো আলামত ছিল না, শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তারা হত্যা মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করছে না এবং একটি স্বাক্ষর নিয়ে ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্মৃতির চাচা মতিউর রহমান, দাদি হোসনে আরা বেগম, আত্মীয় তারিকুর রহমান মিটনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী আকরাম হোসেন ও তার পরিবারের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”














