নিরাপত্তা জোরদার, সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন ও সীমান্ত সড়ক নির্মাণের দাবিও অন্তর্ভুক্ত
পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে পিসিএনপি’র স্মারকলিপি প্রদান
- আপডেট সময় : ০২:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

মোঃ শফিকুল ইসলাম তুহিন |
বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
বান্দরবান: পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের শাসনবিধি বাতিল, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদে নির্বাচন আয়োজনসহ সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)।
রবিবার (১ মার্চ) সকাল ১০টায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান, জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
লিখিত বক্তব্যে কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এতে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ বাড়ছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদে বাঙালি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালনের জন্য ভাইস চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবি, পাহাড়ে সশস্ত্র বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় প্রত্যাহারকৃত ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন, দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ১০৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি এবং ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এসব আইন ও চুক্তি বাতিল করে সমতলের জেলার মতো সংবিধানের আলোকে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া ভূমি কমিশন আইন সংশোধন, সকল সম্প্রদায়ের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা, বাজারফান্ড এলাকায় হাউজ লোন চালু রাখা এবং শিক্ষা, চাকরি ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবিও স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।






















