ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক, বিয়ে ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
রাজশাহীতে ভুয়া পাইলট পরিচয়ে প্রেম-বিয়ে ও অর্থ আত্মসাৎ, সিরিয়াল নারী প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার মারুফ ওরফে অধি
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার | রাজশাহীঃ
রাজশাহীতে ভুয়া পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিয়ে করা, অর্থ আত্মসাৎ এবং স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন মারুফ ওরফে অধি। তাকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে ধারাবাহিক প্রতারণার চাঞ্চল্যকর চিত্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভুয়া পরিচয়, আকর্ষণীয় পেশাগত অবস্থান এবং বিদেশে ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নারীদের বিশ্বাস অর্জন করতেন। পরে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ গ্রহণ করে সম্পর্ক ভেঙে দিতেন বা নির্যাতনের পথ বেছে নিতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজশাহী নগরীর উত্তরা ক্লিনিক মোড় এলাকায় বসবাসকারী অধি নিজেকে কখনও পাইলট, কখনও বিদেশি প্রশিক্ষক কিংবা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দিতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশে তোলা ছবি, বিমান সংক্রান্ত পোস্ট এবং সাজানো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে তিনি একটি বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করেন।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই পরিকল্পিত ডিজিটাল ইমেজই ছিল তার প্রতারণার প্রধান কৌশল।
ভুক্তভোগী প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অধি বিদেশযাত্রা, প্রশিক্ষণ ফি ও ব্যবসায় বিনিয়োগের নামে কয়েক দফায় বড় অঙ্কের টাকা নেন। টাকা দিতে দেরি হলে শুরু হতো মারধর, অপমান ও মানসিক নির্যাতন।
তিনি বলেন, “সে আমাকে ভালোবাসেনি, বরং টাকার উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছে।”
অন্য এক নারী, যিনি নিজেকে অধির সাবেক প্রেমিকা দাবি করেছেন, জানান—বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক রাখার পর বিদেশে নেওয়ার আশ্বাসে তার কাছ থেকেও অর্থ নেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, অধির আগেই সংসার রয়েছে। তার ভাষায়, “সবকিছু এমনভাবে সাজানো ছিল যেন সে সত্যিই আন্তর্জাতিক পেশাজীবী।”
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন অধি। বিষয়টি গোপন রেখে দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরে সত্য প্রকাশ পেলে তারা প্রতারণার অভিযোগ তোলেন।
ঘটনার সূত্র ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভদ্রা আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর রোডের ‘নিসুস মেকওভার’ নামক একটি বিউটি পারলার থেকে তাকে আটক করে মান্দা থানা পুলিশ। অভিযানে সহযোগিতা করে চন্দ্রীমা থানা পুলিশ।
মামলায় তার পিতা-মাতাসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে—অধি পরিকল্পিতভাবে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে আর্থিক সুবিধা নিতেন। আরও ভুক্তভোগী সামনে এলে মামলায় নতুন ধারাও যুক্ত হতে পারে।
ঘটনাটি নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাজানো পরিচয়, দ্রুত সম্পর্ক গড়া এবং যাচাই ছাড়া আর্থিক লেনদেন এখন প্রতারণার বড় মাধ্যম হয়ে উঠছে। তাই সম্পর্ক বা বিয়ের আগে পারিবারিক ও পেশাগত যাচাই-বাছাই জরুরি।
এই প্রতিবেদনের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। নতুন তথ্য, ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও তদন্ত অগ্রগতির ভিত্তিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।














