সনদ জালিয়াতি ও অবৈধ পত্রিকা প্রকাশে রাজশাহীতে তোলপাড়
রাজশাহীতে প্রতারণার মাধ্যমে ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ গ্রহণ ও অবৈধ পত্রিকা প্রকাশের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

মো: গোলাম কিবরিয়া |
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মহানগরীতে প্রতারণার মাধ্যমে ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ গ্রহণ, সরকারি নিবন্ধন নম্বর অপব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ এবং সাংবাদিক কার্ড বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মতিহার থানাধীন ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সবুজ আলী অভিযোগ করেন, রাজশাহীর দূর্গাপুর থেকে আগত বর্তমানে কাজলা এলাকায় বসবাসকারী মোঃ সানোয়ার রহমান (৫২), ওরফে সানোয়ার আরিফ, মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ সনদ গ্রহণ করেছেন এবং এর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মতিহার থানার জাহাজঘাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন তরুণ-যুবকের হামলায় তিনি আহত হন বলে দাবি করা হয়। তবে এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ওই দিন বিকেল ৫টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মতিহার থানার এক এসআইয়ের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। এর জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগকারী বলেন, আহত হওয়ার ঘটনাকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি সনদের জন্য আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে সনদ ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন। বিষয়টি তদন্ত করে সনদ বাতিলসহ প্রতারণার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে ‘রাজশাহীর শীর্ষ সংবাদ’ নামে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কোনো সরকারি অনুমোদন বা বৈধ নিবন্ধন না থাকলেও সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে নিজেকে প্রকাশক ও সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক নিয়োগ এবং কার্ড বাণিজ্য করা হচ্ছে। নগরীর কাজলায় অফিসের ঠিকানা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কোনো কার্যালয় নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেশাদার সাংবাদিক নন; তবে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ সানোয়ার রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জানতে চাইলে আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ গাজিউর রহমান, পিপিএম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক অফিয়া আখতার জানান, অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।














