পরিবারের আহাজারি, ঘটনার তদন্তে নেমেছে নৌ পুলিশ
নিখোঁজের ৫৮ ঘণ্টা পর রাউজানে হালদা নদী থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, ওরসের ঝগড়া ঘিরে হামলার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:৪৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

মিলন বৈদ্য শুভ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় হালদা নদী থেকে নিখোঁজের ৫৮ ঘণ্টা পর মোহাম্মদ সাব্বির (২১) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামিপাড়া ছায়ারচর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানুউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট এলাকায় একটি ওরস মাহফিল থেকে নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন সাব্বির ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু। মেলায় দুই দল যুবকের মধ্যে কথা–কাটাকাটির জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, মধ্যরাতে নদীর মাঝখানে নৌকায় উঠে এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় তিনজন নদীতে পড়ে যান। তাঁদের মধ্যে দু’জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও সাব্বির নিখোঁজ হন। তাঁর সঙ্গে থাকা যুবকেরা দাবি করেন, হামলার সময় সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
সাব্বিরের সঙ্গী মোহাম্মদ মারুফ বলেন, “কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সাব্বিরকে মাথায় আঘাত করা হলে আমরা নদীতে ঝাঁপ দিই। আমরা দু’জন কোনোভাবে তীরে উঠতে পারি, কিন্তু সাব্বিরকে আর খুঁজে পাইনি।”
নিখোঁজের পর পরিবার ও স্থানীয়রা হালদা নদীতে টানা খোঁজাখুঁজি চালান। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ছায়ারচর এলাকায় তাঁর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
হালদা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ রমজান আলী বলেন, “ওরসের মেলায় দুই দল যুবকের ঝগড়ার জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সাব্বির নদীতে পড়ে যান। আজ সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে।”
লাশ সনাক্তের পর পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাব্বিরের চাচা মো. মোতালেব বলেন, “আমরা লাশ সনাক্ত করেছি। এ কষ্ট সহ্য করা যায় না। কেন আমার ভাইপোকে এভাবে মরতে হলো? প্রশাসনের কাছে আমরা বিচার চাই।”
মা মনোয়ারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “যারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে, তাদের বিচার চাই। কিন্তু আমার ছেলেকে তো আর ফিরে পাবো না।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।














