ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কেনার অর্থ তুলে দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন
পুঠিয়ায় দরিদ্র শিক্ষার্থীকে বই কিনে দিলেন এসিল্যান্ড শিবু দাশ
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

দরিদ্রতার কারণে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কিনতে না পেরে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল এক শিক্ষার্থীর জীবন। ঠিক সেই সময় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন পুঠিয়া উপজেলা প্রশাসন-এর সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় অসহায় শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের বই কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তুলে দেন পুঠিয়ার এসিল্যান্ড শিবু দাশ।
আবু বক্কর সিদ্দিক পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের দুদুর মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এ সময় এসি (ল্যান্ড) শিবু দাশ বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি মৌলিক অধিকার। শুধুমাত্র অর্থের অভাবে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেমে না যায়—এটাই আমার বিশ্বাস। আবু বক্কর সিদ্দিকের মতো অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা চরম কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি মানুষের শিক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সকলের এমন উদ্যোগের পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী বই কিনতে না পারার কারণে যদি হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে সেটি শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—সমাজ ও দেশেরও ক্ষতি। আজ হয়তো সামান্য একটি সহযোগিতা, কিন্তু এর মাধ্যমেই একটি ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়। আমি মনে করি, প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তারই উচিত সুযোগের মধ্যে থেকে মানবিক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া।”
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “বই কেনার টাকা না থাকায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে—এই ভয়টা আমাকে প্রতিদিন তাড়া করছিল। পরিবার থেকেও তেমন সহযোগিতা পাওয়ার উপায় ছিল না। ঠিক তখন স্যার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এটা আমার জন্য কল্পনার বাইরে ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এই সহায়তা শুধু বই কেনার টাকা নয়, এটা আমাকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার শক্তি দিয়েছে। আমি এখন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন ভালো মানুষ ও প্রতিষ্ঠিত নাগরিক হতে চাই, যেন ভবিষ্যতে আমিও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।”
এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সহযোগিতা আরও শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর পথ দেখাবে














