চট্টগ্রাম ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নওগাঁয় ডিবি পুলিশের অভিযানে ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

জমি বিরোধে দেবর-শরিকদের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, প্রশাসনের তদন্ত

পথ বন্ধ, পানি বন্ধ: যশোরে প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন কন্যাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

আব্দুল্লাহ আল মামুন
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আব্দুল্লাহ আল মামুন | যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার তিন কন্যা সন্তানকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে আপন স্বজনদের বিরুদ্ধে।

চলাচলের পথ বন্ধের পাশাপাশি ফসলি জমিতে সেচের পানি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম মানবিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। বিষয়টি বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে তদন্তাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাজ্ঞী গ্রামে।ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাজমা খাতুন তিন কন্যা সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাই সংসার চালিয়ে আসছেন।তার স্বামী আব্দুল মান্নান জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মিনাজ ফকিরের ছেলে প্রবাসী আব্দুল মান্নান পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হিসেবে ৩৯ শতাংশ জমির মধ্য থেকে সাড়ে ৯.৭৫ শতাংশ এবং আপন ভাই আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে ক্রয়কৃত আরও সাড়ে ৯.৭৫ শতাংশ জমি স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।

মোট ১৯.৫০ শতাংশ জমির মালিকানা স্ত্রী নাজমা খাতুনের নামে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দেবরসহ অন্যান্য শরিকরা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিন কন্যা সন্তানের কারণে ভবিষ্যতে জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে শরিকরা বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং জমির মাঝখানে অংশ দাবি করে চাষাবাদে বাধা দেন। একপর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আশায় নাজমা খাতুন আদালতে বণ্টন মামলা দায়ের করেন।

মামলা চলমান থাকায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তার চলাচলের পথ বন্ধ ও বোরো মৌসুমে জমিতে সেচের পানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

নাজমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ওরা আমাকে আর আমার মেয়েদের উপর জুলুম করছে। জমিতে ফসল ফলাতে না দিলে আমরা খাব কী? ৫ শতক জমিতে শ্যালো বসানো সম্ভব না। আমি অনেকবার অনুরোধ করেছি, তবুও ওরা আমাদের রিজিক বন্ধ করে দিতে চায়।”

খেদাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুনসুর বলেন, “এটা চরম অমানবিক আচরণ। আমি বলেছি—ভাবি আর বাচ্চাদের না খেয়ে মারার ব্যবস্থা করছেন কেন? কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনছে না।”

অভিযোগের বিষয়ে দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমি আমার শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেব না। জেল হলেও না।”

অন্যদিকে শরিক মোজাম্মেল হোসেন ব্যক্তিগত রাস্তার কথা বলে যাতায়াতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সরকারি রাস্তা নিয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বিষয়টি জানতে পেরে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খানের নির্দেশে এসআই উবাইদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জমিতে পানি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে পুলিশ।

প্রবাসী আব্দুল মান্নানের পরিবার এখন প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে তারা নিজ ভূমিতে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস ও চাষাবাদ করতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

জমি বিরোধে দেবর-শরিকদের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগ, প্রশাসনের তদন্ত

পথ বন্ধ, পানি বন্ধ: যশোরে প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন কন্যাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আব্দুল্লাহ আল মামুন | যশোর প্রতিনিধি:

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার তিন কন্যা সন্তানকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে আপন স্বজনদের বিরুদ্ধে।

চলাচলের পথ বন্ধের পাশাপাশি ফসলি জমিতে সেচের পানি বন্ধ করে দেওয়ায় চরম মানবিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। বিষয়টি বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে তদন্তাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাজ্ঞী গ্রামে।ভুক্তভোগী গৃহবধূ নাজমা খাতুন তিন কন্যা সন্তান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাই সংসার চালিয়ে আসছেন।তার স্বামী আব্দুল মান্নান জীবিকার তাগিদে প্রবাসে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মিনাজ ফকিরের ছেলে প্রবাসী আব্দুল মান্নান পৈতৃক সম্পত্তির অংশ হিসেবে ৩৯ শতাংশ জমির মধ্য থেকে সাড়ে ৯.৭৫ শতাংশ এবং আপন ভাই আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে ক্রয়কৃত আরও সাড়ে ৯.৭৫ শতাংশ জমি স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন।

মোট ১৯.৫০ শতাংশ জমির মালিকানা স্ত্রী নাজমা খাতুনের নামে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দেবরসহ অন্যান্য শরিকরা।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিন কন্যা সন্তানের কারণে ভবিষ্যতে জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে শরিকরা বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং জমির মাঝখানে অংশ দাবি করে চাষাবাদে বাধা দেন। একপর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আশায় নাজমা খাতুন আদালতে বণ্টন মামলা দায়ের করেন।

মামলা চলমান থাকায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তার চলাচলের পথ বন্ধ ও বোরো মৌসুমে জমিতে সেচের পানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

নাজমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ওরা আমাকে আর আমার মেয়েদের উপর জুলুম করছে। জমিতে ফসল ফলাতে না দিলে আমরা খাব কী? ৫ শতক জমিতে শ্যালো বসানো সম্ভব না। আমি অনেকবার অনুরোধ করেছি, তবুও ওরা আমাদের রিজিক বন্ধ করে দিতে চায়।”

খেদাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুনসুর বলেন, “এটা চরম অমানবিক আচরণ। আমি বলেছি—ভাবি আর বাচ্চাদের না খেয়ে মারার ব্যবস্থা করছেন কেন? কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনছে না।”

অভিযোগের বিষয়ে দেবর আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমি আমার শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি দেব না। জেল হলেও না।”

অন্যদিকে শরিক মোজাম্মেল হোসেন ব্যক্তিগত রাস্তার কথা বলে যাতায়াতে বাধা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সরকারি রাস্তা নিয়ে কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বিষয়টি জানতে পেরে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।মণিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খানের নির্দেশে এসআই উবাইদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জমিতে পানি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে পুলিশ।

প্রবাসী আব্দুল মান্নানের পরিবার এখন প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে তারা নিজ ভূমিতে নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস ও চাষাবাদ করতে পারেন।