আলিয়ারা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
- আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

এ.কে পলাশ |
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে এক প্রবাসী ও এক সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুইজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। নিহতদের গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের আগে নাঙ্গলকোট উপজেলার বকশগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—প্রবাস থেকে প্রায় এক মাস আগে দেশে ফেরা দেলোয়ার হোসেন এবং বকশগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহম্মদ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে হামলাকারীরা দেলোয়ার হোসেন ও ছালেহ আহম্মদকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত একজনসহ অন্যান্য আহতদের কুমিল্লা ও ফেনীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে আলিয়ারা গ্রামের আবুল খায়ের গ্রুপ ও শেখ ফরিদ গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন রোকন আলীর স্ত্রী শরিফা বেগম (৬০) এবং বশির আহম্মেদের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৫৫)।
ওই ঘটনায় আবুল খায়ের বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, কারাগার থেকে আসামিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এলাকায় আবারও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়, যারই পরিণতিতে আজকের এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ।
ঘটনার পর থেকে আলিয়ারা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,গত এক বছরে এলাকায় একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে অপরাধ দমনে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।














