দুর্নীতি ও আচরণগত অভিযোগে ছাত্র-জনতা ও হাসপাতাল স্টাফদের তীব্র প্রতিবাদ
শিবচরে যোগদান করতে না পেরে প্রতিবাদের মুখে ফিরে গেলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

গোলাম মওলা | মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করতে এসে তীব্র গণপ্রতিবাদের মুখে পড়েছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে বদলি হওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা।
শেষ পর্যন্ত যোগদান না করেই পুলিশি মধ্যস্থতায় হাসপাতাল এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডা. সুজন সাহা কয়েকজন সহযোগী ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলে সেখানে উপস্থিত ছাত্র-জনতা এবং হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডা. সুজন সাহা তাঁর পূর্ববর্তী কর্মস্থল নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্টাফদের সঙ্গে অসদাচরণে জড়িত ছিলেন।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিবচরের সাধারণ মানুষ টানা তিন দিন ধরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছিল। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাঁর যোগদানের বিরোধিতা করে আসেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. সুজন সাহার ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁকে শিবচরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেল বহর নিয়ে হাসপাতালের প্রধান ফটকে প্রবেশের চেষ্টা করলে জনতা ও হাসপাতাল স্টাফরা অবস্থান নিয়ে তাঁর যোগদান ঠেকান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিবচর শাখার সভাপতি হাফেজ জাফর আহমাদ বলেন,ডা. সুজন সাহার বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আজ তিনি যেভাবে বহর নিয়ে এসে স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এমন কর্মকর্তা আমরা শিবচরে চাই না।
শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য শামিম আহসান চৌধুরী বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেন না। তাঁর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিকে শিবচরে মেনে নেওয়া হবে না।”
এ বিষয়ে ডা. সুজন সাহা বলেন, “আমি সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী কর্মস্থলে যোগদান করতে এসেছিলাম। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা বুঝতে পারছি না। এখানে কারও সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধ নেই।”














