চকরিয়ায় অবৈধ বালু ভরাটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় কঠোর বার্তা
শাহ্ ওমর (রাঃ) মাজারঘেঁষা ফসলি জমি ভরাট: আবুল খাইর টৌবাকুর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ লাখ টাকা জরিমানা
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৯২ বার পড়া হয়েছে

চকরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ শাহ্ ওমর (রাঃ) মাজারের পূর্ব পাশে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বালু ফেলে ফসলি জমি ভরাট করার সময় আবুল খাইর টৌবাকু কোম্পানিকে হাতেনাতে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল ১১ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভূমি) রূপায়ণ দেব সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে অবৈধ ভরাটকাজ বন্ধ করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ইব্রাহিম খলিল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আবুল খাইর টৌবাকু কোম্পানির নামে অর্থদণ্ড আরোপ করা হলে জরিমানা আদায়ের পর আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তামাক চাষ ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী এই কোম্পানি কীভাবে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমি ধ্বংস করছে—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর। তিনি আরও বলেন, “আমাদের উর্বর কৃষিজমি রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী এই প্রতিষ্ঠান প্রশাসনকে কার্যত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু ভরাটের মাধ্যমে ফসলি জমি নষ্ট করে আসছে। এর ফলে এলাকার কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে এবং ঐতিহ্যবাহী শাহ্ ওমর (রাঃ) মাজার এলাকা পরিবেশগত ঝুঁকিতে পড়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, একাধিকবার অভিযোগ ও সতর্কতা থাকার পরও কীভাবে এতদিন এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে পারল? শুধু জরিমানা নয়, স্থায়ী উচ্ছেদ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধভাবে ফসলি জমি ধ্বংস ও পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।














