গোপালগঞ্জে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এলপিজি গ্যাস, ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত খরচ চাপাচ্ছে
গোপালগঞ্জে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এলপিজি গ্যাস, দাম বাড়ছে ক্রেতাদের ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১২৮ বার পড়া হয়েছে

- লুৎফর সিকদার | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নতুন বছরের শুরুতে গোপালগঞ্জ জেলায় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের বাজার তেঁতে ওঠেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
ডিলাররা বলছেন, সরকারের দাম বৃদ্ধি, কম সরবরাহ এবং পরিবহনের অতিরিক্ত খরচের কারণে বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রেতারা জানাচ্ছেন, প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনেক সময় খুচরা বিক্রেতার কাছে গ্যাস পাওয়া যায় না। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডিলাররা বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যয় বেড়েছে। অনেকে আবার কাঠের চুলা ব্যবহারের চিন্তা করছেন।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) গোপালগঞ্জ শাখা জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলার এক লাখ ৩০ হাজার পরিবার এবং দুই হাজার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানে এলপিজি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
জানুয়ারির জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে বাজারে কোনো প্রভাব পড়েনি।
সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. সাইফুল ইসলাম ওসমান সিকদার জানান, কোম্পানি ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ করছে না। প্রতিদিন তারা ২৫০ থেকে ৩০০ সিলিন্ডার বিক্রি করেন, কিন্তু এখন সপ্তাহে ১০০ সিলিন্ডারও পাচ্ছেন না।
সরবরাহ কম হওয়ায় গ্যাসের প্রতি সিলিন্ডারে যাতায়াত খরচ বেড়েছে।
শহরের খুচরা বিক্রেতা অলিফ সিকদার বলেন,“ডিলারের কাছে ২৫টা গ্যাস চাইলে, সরবরাহ করা হয় মাত্র পাঁচ-ছয়টা। তাই দেড়শ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়ে গ্যাস কিনে আমরা বিক্রি করছি। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ক্রেতারা জানিয়েছেন, ডিলাররা সিন্ডিকেট করে গ্যাস বিক্রি করছেন। শহরের হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গ্যাসের অতিরিক্ত দাম হোটেল-রেস্টুরাঁর মুনাফা কমিয়ে দিয়েছে।
ক্যাব গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. মোজহারুল ইসলাম বাবলু ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম বলেছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার গ্যাস ডিলার নিপুণ প্রযুক্তিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।














