রিকশাচালকের সততায় উজ্জ্বল হলো মানবিকতা, প্রশংসিত আরএমপির দ্রুত পদক্ষেপ
রাজশাহীতে রিকশাচালকের সততার দৃষ্টান্ত: আরএমপির সহযোগিতায় হারানো ব্যাগ ফিরে পেলেন নারী
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মো: গোলাম কিবরিয়া |
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী মহানগরীতে এক রিকশাচালকের অনন্য সততা ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) দ্রুত ও পেশাদার তৎপরতায় হারানো মালামাল ফিরে পেয়েছেন এক নারী যাত্রী। এই ঘটনা সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ যে এখনো বিদ্যমান—তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী মহানগরীর উপশহর এলাকা থেকে এক নারী যাত্রীকে রিকশায় ওঠান মো: আবুল হোসেন। তিনি গোদাগাড়ী থানার ফরাজপুর গ্রামের মো: আঃ মান্নানের ছেলে। যাত্রীকে বোয়ালিয়া থানার জিরো পয়েন্ট স্যান্ডেল পট্টি এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার পর তিনি লক্ষ্য করেন, যাত্রীটি অসাবধানতাবশত তার একটি ছোট হ্যান্ডব্যাগ রিকশায় ফেলে গেছেন।
ব্যাগটি খুলে আবুল হোসেন দেখতে পান, এর ভেতরে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন, বাসার চাবি ও কিছু নগদ অর্থ রয়েছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ব্যাগের মালিকের সন্ধান না পেয়ে তিনি ব্যাগটি নিজের কাছে না রেখে সঠিক মালিকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় একজনের সহায়তায় রিকশাচালক আবুল হোসেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিটের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আরএমপি কমিশনার ড. মো: জিল্লুর রহমান তাৎক্ষণিক গুরুত্ব দিয়ে রিকশাচালককে আরএমপি সদর দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন।
আরএমপির মুখপাত্র ও উপকমিশনার (সিটিটিসি) মো: গাজিউর রহমান, পিপিএম-এর তত্ত্বাবধানে তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে ব্যাগটির প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে হারানো মালামালগুলো মালিকের হাতে হস্তান্তর করা হয়।
হারানো প্রিয় জিনিসপত্র ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত নারী আরএমপি কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে রিকশাচালক আবুল হোসেনের সততা ও নৈতিকতার এই দৃষ্টান্তকে সম্মান জানিয়ে তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার প্রদান করে আরএমপি প্রশাসন।
বর্তমান সমাজে যেখানে অন্যের সম্পদ আত্মসাতের প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, সেখানে একজন শ্রমজীবী মানুষের এমন সততা আমাদের নতুন করে আশাবাদী করে তোলে। একই সঙ্গে পুলিশের মানবিক ও সেবামূলক ভূমিকা নাগরিক আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।














