একই অভিযোগে এক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, অন্যজন বহাল—স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন
একই আইন, ভিন্ন সিদ্ধান্ত: ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান দোলনের মনোনয়নকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একই আইনের আওতায় অন্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও কেন দোলনের মনোনয়ন বহাল রাখা হয়েছে—এ প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থাকা অথবা জাল স্বাক্ষর থাকা—উভয়ই নির্বাচন আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকির মনোনয়নপত্রে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর পাওয়ায় নির্বাচন কর্মকর্তারা তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ফরিদপুর-১ আসনে আরিফুর রহমান দোলনের মনোনয়ন বহাল থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন স্থানীয় ভোটার বলেন,
“একই ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে অন্য প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তাহলে দোলনের ক্ষেত্রে কেন ভিন্ন সিদ্ধান্ত? আমরা একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। এক বিশ্লেষক বলেন,
“নির্বাচন কমিশন যদি একই আইনে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আইনের সমান প্রয়োগই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।”
তবে আরিফুর রহমান দোলনের প্রতিনিধির দাবি, তাদের মনোনয়ন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই দাখিল করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রত্যাশা করি।”
নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এই বিতর্ক ফরিদপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি জনগণের দৃষ্টি এখন আরও বেশি তীক্ষ্ণ। নাগরিকদের প্রত্যাশা—যে কোনো প্রার্থী আইন লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে সমান ও স্বচ্ছভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।














