জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে যশোর-৫ আসন ছেড়েছে বিএনপি, জমিয়ত নেতা রশীদ আহমাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন
যশোর-৫ আসনে জোট সমঝোতায় জমিয়ত নেতার উত্থান, বিএনপির মনোনয়ন পেলেন রশীদ আহমাদ
- আপডেট সময় : ০৩:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭০ বার পড়া হয়েছে

এস এম মামুন | যশোর
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনটি ছেড়েছে বিএনপি। এই আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশের নেতা মাওলানা রশীদ আহমাদ (রশীদ বিন ওয়াক্কাস) কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জোটসঙ্গীদের জন্য আটটি আসনে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দেন। ঘোষিত তালিকায় যশোর-৫ আসনটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এই অংশটির নিবন্ধন না থাকায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হলে বিএনপিতে যোগদান করা ছাড়া মাওলানা রশীদ আহমাদের বিকল্প নেই। সে কারণে তার বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত বলেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
মাওলানা রশীদ আহমাদ ঐক্যবদ্ধ জমিয়তের দীর্ঘদিনের মহাসচিব এবং জমিয়তের একাংশের সভাপতি প্রয়াত মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের পুত্র। মুফতি ওয়াক্কাস যশোর-৫ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ছিলেন এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের এমপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
যশোর-৫ আসনটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত হলেও মুফতি ওয়াক্কাস বারবার এখান থেকে নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, উদার মানসিকতা ও নিরাপদ নেতৃত্বের কারণে সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছেও তিনি আস্থাভাজন ছিলেন। সেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সুবাদে এবার তার পুত্র মাওলানা রশীদ আহমাদকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী।
এর আগে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মূল অংশকে চারটি আসনে ছাড় দেয়। সর্বশেষ ঘোষণার মাধ্যমে জমিয়তের দুই অংশ মিলিয়ে মোট পাঁচটি আসনে ছাড় দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর যশোর-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেনকে। তবে জোট সমঝোতার দ্বিতীয় ঘোষণায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে মাওলানা রশীদ আহমাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।














