ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের ফোন না ধরায় তথ্যপ্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত—ক্ষুব্ধ সাংবাদিক ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ
বোরহানউদ্দিন ইউএনও’র ফোনে সাড়া মেলে না: বিপাকে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ
- আপডেট সময় : ১১:০১:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ফোন কল না ধরা, সংবাদসংক্রান্ত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা এবং সন্ধ্যার পরে সরকারি মুঠোফোন বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানান— গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার কল, এসএমএস পাঠানো হলেও ইউএনও কোনো ধরনের সাড়া দেন না। শুধু সাংবাদিকই নন, প্রশাসনিক প্রয়োজনে সাধারণ মানুষও ইউএনও’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন। এতে জনসেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশেও সৃষ্টি হচ্ছে জটিলতা।
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ভোলা জেলা শাখার দায়িত্বশীল সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন— দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের সঙ্গে যোগাযোগ করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য নিতে উপজেলা পরিষদে গেলেও সচরাচর তাকে পাওয়া যায় না।
গণমাধ্যমকর্মী পরাণ আহসান, আব্দুর রহমান (ইমন), তানজিল হোসেনসহ আরও অনেকে বলেন, “প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তার জনগণকে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেন না, বার্তার জবাব দেন না। এতে তথ্যের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাংবাদিকদের বারবার অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ রিপোর্টার বলেন, “ঢাকার সচিবরাও ফোন রিসিভ করেন। কিন্তু বোরহানউদ্দিনের ইউএনওকে পাওয়া যায় না। অনেকেই নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবেন— এটাই বড় সমস্যা।”
ভোলার সিনিয়র সাংবাদিকরা জানান— বিষয়টি নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই ইউএনও ফোনে সাড়া দিচ্ছেন না। সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও ডিসিকে অবহিত করা হয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
শুধু সাংবাদিক নয়— সাধারণ মানুষের অভিযোগও একই। নামজারি, ভিজিএফ–ভিজিডি, জমি–জমার বিরোধসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে যোগাযোগ করেও ইউএনওকে পাওয়া যায় না বলে জানান অনেকে। এতে তারা নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করে— প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থানীয় সমস্যাগুলো উদঘাটন সম্ভব। কিন্তু তথ্য না পাওয়ার প্রবণতা স্বচ্ছ প্রশাসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগাযোগের আওতার বাইরে থাকলে প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা কমে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছায় না এবং প্রশাসন–জনগণের দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মনের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
জনগণের তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সচেতন মহল।














