বহরে নতুন উড়োজাহাজ না থাকায় হজ মৌসুমে তীব্র সংকটের আশঙ্কা
পাঁচ বছরে নতুন উড়োজাহাজ নয়: ফ্লাইট সংকটে বিমান, বন্ধ একাধিক আন্তর্জাতিক রুট
- আপডেট সময় : ১০:৩৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বহরে নতুন কোনো উড়োজাহাজ যুক্ত করতে পারেনি। এতে প্রতিষ্ঠানটি তীব্র উড়োজাহাজ সংকটে পড়েছে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নতুন রুট চালু করা তো দূরের কথা, বরং বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক রুট। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গন্তব্যে যাত্রী চাহিদা বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে পারছে না বিমান।
বিমানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে কমপক্ষে ৩৫০–৪০০ সিটের ১৫টি নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করা জরুরি। বর্তমানে বিমানের নিজস্ব উড়োজাহাজ রয়েছে মাত্র ১৯টি। লিজে নেওয়া দুটি বোয়িং উড়োজাহাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে সেগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করলেও লিজযোগ্য উড়োজাহাজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ফলে হজ মৌসুমে তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আকাশপথে পরিবহন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম জানান, হজের সময় বিমান প্রায়ই আন্তর্জাতিক রুট কমাতে বাধ্য হয়, যা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যাত্রীসেবা স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে বহর বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
এদিকে বিমানের কোনো কার্গো উড়োজাহাজ না থাকায় পণ্য পরিবহনে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের বেলি কার্গোর ওপর। ফলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন বাজারে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো একচেটিয়া সুবিধা পাচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে ১৫টি দেশের ২৩টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এর মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রুট উল্লেখযোগ্য। তবে চাহিদার বিপরীতে উড়োজাহাজ কম থাকায় যাত্রীসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সাফিকুর রহমান জানান, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহে সময় লাগে ৫–৬ বছর। সরকারি অনুমোদন ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে তা দ্রুত সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।














