সার বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ, হস্তক্ষেপে ইউএনও—এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল যান চলাচল
হাতীবান্ধায় সারের সংকট: চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের মহাসড়ক অবরোধ
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় চাহিদামতো সার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ কৃষকেরা লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বর সংলগ্ন এলাকা এবং ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’-এর সামনে সার সংকটের প্রতিবাদে এ অবরোধ শুরু হয় বলে জানান স্থানীয় কৃষকেরা।
কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে উপজেলার প্রধান বিক্রয়কেন্দ্র ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’ থেকে চাহিদামতো সার পাওয়া যাচ্ছিল না। বিক্রয়কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছিল—রোববার সকালেই ইউরিয়া সার দেওয়া হবে। এ ঘোষণার পর সিংগিমারী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা ভোর থেকেই সার কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। কিন্তু কয়েকজন কৃষককে সীমিত পরিমাণ সার দেওয়ার পর হঠাৎ বিক্রয়কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কার্তিক বর্মনের সহযোগিতায় স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ করেন কৃষকেরা।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
সিংগিমারীর কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “দুই বিঘা জমির জন্য ইউরিয়া সার খুব দরকার। কয়েক দিনের চেষ্টায়ও সার পাচ্ছি না। আজ সার দেওয়া হবে শুনে এলেও চাহিদামতো সার পাইনি। পরে দেখি দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি করা হচ্ছে।”
একই অভিযোগ করেন কৃষক কসমত আলী। তিনি বলেন, “এখন সার না পেলে ভুট্টা লাগানোই সম্ভব হবে না। বেশির ভাগ কৃষকই একই সমস্যায় ভুগছে, অথচ কোথাও সার পাওয়া যাচ্ছে না।”
অভিযোগের বিষয়ে ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় তিনি বলেন, “কতটুকু সার বিক্রি হয়েছে এবং কতটুকু মজুদ রয়েছে—সব তথ্য যাচাই করা হবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলার পয়েন্ট বাতিল করা হবে।”


















