চট্টগ্রাম ০৮:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিঃ
বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় আধুনিক সকল ফিচার যুক্ত  জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং মাল্টিমিডিয়া দৈনিক সারাদেশ ৭১  নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধনের আবেদনের  জন্য অপেক্ষমান দেশের অন্যতম প্রথম সারির অনলাইন পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার জন্য সংবাদদাতা আবশ্যক, বিশেষ সংবাদদাতা (৪),  ক্রাইম রিপোর্টার (৫), স্টাফ রিপোর্টার (১০), বিভাগীয় ব্যুরো (৩) উপজেলা প্রতিনিধি (১০), বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি (৪),  মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার (সকল জেলা ও উপজেলার জন্য) (১০) ইউনিয়ন প্রতিনিধি (৫)  আবেদনের জন্য সিভি, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবেদন পাঠাবেন saradesh71@gmail.com এই মেইলে।
সংবাদ শিরোনামঃ
বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় শাড়ি-কসমেটিক্সসহ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ ডবলমুরিং-হালিশহরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানকে জেলা কংগ্রেসের ফুলেল শুভেচ্ছা রাণীশংকৈলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত, পতাকা উত্তোলন ও বৃক্ষরোপণ দামুড়হুদায় মটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চোরের মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিরামপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতীবান্ধা-পাটগ্রামে বিজিবির পৃথক অভিযান, উদ্ধার ভারতীয় পণ্য নজরুল বর্ষ ঘিরে পীরগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজন বিদ্রোহী কবির চেতনায় উখিয়ায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

কুড়িগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ যাচাই শুরু করেছে তদন্ত কমিটি

খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে আইনি তদন্ত শুরু

মোঃ মশিউর রহমান বিপুল, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশ ৭১ নিউজ – নির্ভরযোগ্য অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক তিন অধ্যক্ষ—রীতা রানী দেব, এস এম সালাহউদ্দিন আহমেদ ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগবিধি লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম, জাল সনদ ব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

২৩ নভেম্বর ঢাকার শিক্ষা ভবনে অনুষ্ঠিত তদন্ত সভায় অভিযোগকারী লুৎফর রহমান, যিনি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহ–সভাপতি, লিখিত অভিযোগ, আর্থিক অসঙ্গতি সংক্রান্ত নথি, নিয়োগ–প্রক্রিয়ার নথিপত্র এবং জাল সনদের অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। অধিদপ্তর অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

অভিযোগে বলা হয়, রীতা রানী দেব ১৯৯৮ সালে প্রভাষক পদে যোগদানের সময় স্ট্যাম্পে হলফনামা দিয়ে এটিকে তার প্রথম চাকরি বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ হওয়ার আবেদনপত্রে তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা দেখিয়ে জ্যেষ্ঠতার দাবি করেন—যা পূর্বের হলফনামার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও অনিয়ম

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ আছে—মোট ২৫ জন শিক্ষক–কর্মচারীকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের নামে গ্রহণ করা অর্থের কোনো সরকারি রসিদ কিংবা ব্যাংক এন্ট্রির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একজন নিয়োগপ্রার্থী এফিডেভিটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন বলেও নথি জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বরাদ্দ (টিআর/কাবিখা, জেলা পরিষদ, নির্মাণকাজ) ব্যবহারে অসামঞ্জস্য, ভর্তি ও টিউশন ফি ব্যাংকে জমা না করা, একাধিক ভাউচার ও ফি–রশিদে অনিয়ম, এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় এসেছে। ২০১৬ সালের অডিট প্রতিবেদনে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখানো হলেও পূর্বের হিসাবের সঙ্গে তা মিল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

স্বজনপ্রীতি ও জাল সনদ ব্যবহার

২৫ জন নিয়োগের মধ্যে কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্তের সঙ্গে তৎকালীন অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া পাঁচজন শিক্ষক NTRC-এর জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন বলে নথিভুক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, রীতা রানী দেবের বিরুদ্ধে নিয়োগের মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং তার মেয়াদকালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগের নথি তদন্ত কমিটির কাছে দাখিল করা হয়েছে।

অন্য দুই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এস এম সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ লাভ, গভর্নিং বডি কর্তৃক পূর্বে সাময়িক বরখাস্ত, এবং প্রতিষ্ঠানের ৪৪ লাখ ১১ হাজার ১৩৪ টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে—যা এখনো পরিশোধ হয়নি।

অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সভাপতির নিয়োগে ভুয়া তথ্য প্রদান, অবসরের আগের দিন একাধিক রেজুলেশন সম্পন্ন, নোটিশ ছাড়া সভা পরিচালনা এবং জনতা ব্যাংক ত্রিমোহনী বাজার শাখা থেকে একদিনে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলনের অসঙ্গতি–সংক্রান্ত নথি জমা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি

অভিযোগকারী তদন্ত কমিটির কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান—
১. তিন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
২. আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার
৩. জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
৪. সাম্প্রতিক বছরের হিসাব–নিকাশের ফরেনসিক অডিট
৫. ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা

মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইং জানায়—সব নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অভিযুক্তদের কারো সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কুড়িগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিধি লঙ্ঘন ও আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ যাচাই শুরু করেছে তদন্ত কমিটি

খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগে আইনি তদন্ত শুরু

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক তিন অধ্যক্ষ—রীতা রানী দেব, এস এম সালাহউদ্দিন আহমেদ ও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগবিধি লঙ্ঘন, আর্থিক অনিয়ম, জাল সনদ ব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন উইং আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।

২৩ নভেম্বর ঢাকার শিক্ষা ভবনে অনুষ্ঠিত তদন্ত সভায় অভিযোগকারী লুৎফর রহমান, যিনি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহ–সভাপতি, লিখিত অভিযোগ, আর্থিক অসঙ্গতি সংক্রান্ত নথি, নিয়োগ–প্রক্রিয়ার নথিপত্র এবং জাল সনদের অভিযোগসহ বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। অধিদপ্তর অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করে যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

অভিযোগে বলা হয়, রীতা রানী দেব ১৯৯৮ সালে প্রভাষক পদে যোগদানের সময় স্ট্যাম্পে হলফনামা দিয়ে এটিকে তার প্রথম চাকরি বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ হওয়ার আবেদনপত্রে তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা দেখিয়ে জ্যেষ্ঠতার দাবি করেন—যা পূর্বের হলফনামার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও অনিয়ম

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ আছে—মোট ২৫ জন শিক্ষক–কর্মচারীকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের নামে গ্রহণ করা অর্থের কোনো সরকারি রসিদ কিংবা ব্যাংক এন্ট্রির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একজন নিয়োগপ্রার্থী এফিডেভিটের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন বলেও নথি জমা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বরাদ্দ (টিআর/কাবিখা, জেলা পরিষদ, নির্মাণকাজ) ব্যবহারে অসামঞ্জস্য, ভর্তি ও টিউশন ফি ব্যাংকে জমা না করা, একাধিক ভাউচার ও ফি–রশিদে অনিয়ম, এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় এসেছে। ২০১৬ সালের অডিট প্রতিবেদনে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখানো হলেও পূর্বের হিসাবের সঙ্গে তা মিল পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

স্বজনপ্রীতি ও জাল সনদ ব্যবহার

২৫ জন নিয়োগের মধ্যে কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্তের সঙ্গে তৎকালীন অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া পাঁচজন শিক্ষক NTRC-এর জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন বলে নথিভুক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগকারী জানান, রীতা রানী দেবের বিরুদ্ধে নিয়োগের মাধ্যমে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং তার মেয়াদকালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগের নথি তদন্ত কমিটির কাছে দাখিল করা হয়েছে।

অন্য দুই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এস এম সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদ লাভ, গভর্নিং বডি কর্তৃক পূর্বে সাময়িক বরখাস্ত, এবং প্রতিষ্ঠানের ৪৪ লাখ ১১ হাজার ১৩৪ টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে—যা এখনো পরিশোধ হয়নি।

অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সভাপতির নিয়োগে ভুয়া তথ্য প্রদান, অবসরের আগের দিন একাধিক রেজুলেশন সম্পন্ন, নোটিশ ছাড়া সভা পরিচালনা এবং জনতা ব্যাংক ত্রিমোহনী বাজার শাখা থেকে একদিনে ৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা উত্তোলনের অসঙ্গতি–সংক্রান্ত নথি জমা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি

অভিযোগকারী তদন্ত কমিটির কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান—
১. তিন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
২. আত্মসাৎকৃত অর্থ পুনরুদ্ধার
৩. জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
৪. সাম্প্রতিক বছরের হিসাব–নিকাশের ফরেনসিক অডিট
৫. ভবিষ্যতের জন্য বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা

মনিটরিং ও ইভালুয়েশন উইং জানায়—সব নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অভিযুক্তদের কারো সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।