বিচারক আব্দুর রহমানের দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি প্রাক্তন সেনাসদস্য লিমন মিয়া
রাজশাহীতে বিচারকের ছেলেকে হত্যা: বাবার দায়ের করা মামলায় আসামি সাবেক সেনাসদস্য লিমন
- আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ৫০ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান নিজেই তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমন (১৬) হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে মামলার এজাহারে সই করে ছেলের মরদেহ নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি রওনা দেন তিনি। পরে রাজপাড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, “বিচারক নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া (৩৪) বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”
পুলিশ জানায়, আসামি লিমন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ভবানীগঞ্জ গ্রামে। তার বাবা এসএম সোলায়মান শেখ। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সৈনিক লিমনের চাকরি ২০১৮ সালে চলে যায়। পরবর্তীতে তিনি বিয়ে করলেও সংসার টেকেনি।
জানা যায়, বিচারক আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসীর সঙ্গে লিমনের পরিচয় ছিল দীর্ঘদিনের। তিনি তাসমিন নাহারের কাছ থেকে টাকা নিতেন এবং সম্প্রতি টাকা দেওয়া বন্ধ করলে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন। এ ঘটনায় গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাসমিন নাহার।
রাজশাহীতে কর্মরত বিচারক আব্দুর রহমান সম্প্রতি ডাবতলা এলাকায় স্ত্রী ও ছেলে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই বাসায় গিয়ে লিমন তাওসিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এতে গুরুতর আহত হন তাসমিন নাহার। ধস্তাধস্তির সময় লিমন নিজেও আহত হয়।
তিনজনকেই রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাওসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে তাওসিফের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন ও প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী ময়নাতদন্ত করেন। ময়নাতদন্ত শেষে বিচারক আব্দুর রহমান ছেলের মরদেহ দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্যরা তাওসিফের দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। নিহত তাওসিফ রাজশাহী গভ. ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।














