অনুদানের নামে কোটি টাকা প্রবাহ — মাঠে নেই কোনো অনাথ সহায়তা প্রকল্প; অভিযোগ তদন্ত করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো
বান্দরবান জেলা পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে কেএনএফ–কে অর্থায়নের অভিযোগ: বিদেশি অনুদানে অনিয়ম তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো
- আপডেট সময় : ০৭:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫ ৭৫ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবান প্রতিনিধিঃ
পার্বত্য বান্দরবানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং জেলা পরিষদের সদস্য লাল জারলম বম আবারও আলোচনায়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)–কে অর্থায়ন এবং বিদেশি অনুদানের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে।
লাল জারলম বম একইসঙ্গে কমিউনিটি এডভান্সমেন্ট ফোরাম (CAF) নামের একটি এনজিও–র নির্বাহী পরিচালক। বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, বিদেশের কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিতভাবে ৬,৩৯১ মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাত লাখ টাকা—“অনাথ শিশু সহায়তা প্রকল্পের” নামে দেশে আসে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বান্দরবানে কোনো অনাথ সহায়তা কার্যক্রম বা শিক্ষা প্রকল্পের দৃশ্যমান অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বহু বাসিন্দার দাবি, সংগঠনের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম কখনও চোখে পড়েনি, যদিও সংগঠনের কয়েকজনকে মাঝে মাঝে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে দেখা গেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, এনজিওটির ব্যাংক হিসাবসহ লাল জারলম বমের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনুদানের অর্থের “অস্বাভাবিক প্রবাহ” পরিলক্ষিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
> “ব্যাংক লেনদেন ট্র্যাক করা হচ্ছে। অনুদানের একটি অংশের গন্তব্য নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে।”
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদের দাবি, বিদেশি অনুদানের নামে অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে।
বান্দরবান নাগরিক ফোরামের এক সদস্য বলেন,
> “অনুদানের নামে প্রতারণা ও সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানের এনজিও কার্যক্রম নিয়ে বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিদেশি অনুদান গ্রহণ, ব্যয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন যাচাই করা হচ্ছে। অনুমোদন না থাকলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিবন্ধন বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
এই বিষয়ে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও লাল জারলম বমের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পার্বত্য অঞ্চলের এনজিও কার্যক্রম ও বিদেশি অনুদান ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।














