ফুটপাত, বন্ধ দোকানের সামনে ও ঝুঁকিপূর্ণ রোড ডিভাইডারেই রাত কাটছে বহু মানুষের; প্রয়োজন আশ্রয়, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন
মগবাজারে রাস্তার পাশে মানবেতর জীবন, ফুটপাত ও ডিভাইডারে আশ্রয় গৃহহীন মানুষের
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ৩০ আগস্ট ২০২৬: রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম এলাকাগুলোর অন্যতম মগবাজার। দিনভর যানবাহনের শব্দ, মানুষের ভিড় ও ব্যস্ততায় মুখর এই এলাকায় রাস্তার পাশেই কাটছে বহু ভাসমান ও গৃহহীন মানুষের দিন-রাত। ফুটপাত, বন্ধ দোকানের সিঁড়ির গোড়া এবং রোড ডিভাইডারই হয়ে উঠেছে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল।

সম্প্রতি মগবাজার, নিউ ইস্কাটন রোড এবং অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। খোলা আকাশের নিচে ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনা ও যানবাহনের ধোঁয়ার মধ্যে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন এসব মানুষ।
মগবাজারের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, কেউ ফুটপাতের ওপর, কেউ বন্ধ দোকানের সামনে আবার কেউ রাস্তার মাঝের রোড ডিভাইডারের ওপর ছেঁড়া কাঁথা, কাপড় কিংবা প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে শুয়ে আছেন। অনেকের নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, নেই নিরাপদে রাত কাটানোর নির্দিষ্ট কোনো জায়গা।
বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কের রোড ডিভাইডারে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জীবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দিন-রাত চলাচলকারী যানবাহন, ধোঁয়া ও বিকট শব্দের মধ্যেই তাদের থাকতে হচ্ছে। সামান্য একটি কাপড় বা ছেঁড়া কাঁথা দিয়ে শরীর ঢেকেই রাত কাটানোর দৃশ্য নগরজীবনের এক কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভাসমান মানুষঃ-
স্থায়ী বাসস্থান না থাকায় এসব মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। রাস্তার ধুলাবালি, আবর্জনা, ড্রেনের দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের।
বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধার অভাবেও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে চর্মরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বর্ষাকালে কাদা-পানি এবং অন্যান্য সময়ে তীব্র রোদ ও ধুলাবালি তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তোলে।
দিনমজুরি ও ভিক্ষাবৃত্তিতে চলে জীবনঃ-
স্থানীয় পথচারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মগবাজার ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন বয়সী ভাসমান মানুষের দেখা মেলে। তাদের কেউ দিনমজুরি করেন, কেউ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে ফিরে যাওয়ার মতো স্থায়ী ঘর না থাকায় রাস্তার পাশেই আশ্রয় নিতে হয় তাদের।
স্থানীয়দের মতে, এসব মানুষের জন্য শুধু তাৎক্ষণিক খাবার বা আর্থিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সক্ষম ব্যক্তিদের উপযুক্ত কাজের সুযোগ তৈরি করা গেলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
প্রয়োজন সমন্বিত পুনর্বাসন উদ্যোগঃ-
ভাসমান ও গৃহহীন মানুষের এই দুরবস্থা দূর করতে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানি, খাবার, স্যানিটেশন ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি কর্মক্ষম মানুষদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে মানুষের এমন মানবেতর জীবন শুধু দারিদ্র্যের চিত্র নয়, এটি নগরের সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক দায়িত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এসব মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।














