ঘিওরের খাদ্যগুদামে চাল-গমের ঘাটতির পর ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্যগুদাম পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনার ঘোষণা
খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা | ২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবারঃ দেশের সরকারি খাদ্যগুদামগুলোতে মজুত খাদ্যশস্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, হিসাবের গরমিল কিংবা কারসাজি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে কিংবা অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে যুগান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪ জেলার সরকারি খাদ্যগুদাম পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে। কোথাও মজুত খাদ্যশস্যের হিসাবে গরমিল, খাদ্যশস্য আত্মসাৎ, সংরক্ষণে অনিয়ম কিংবা অন্য কোনো ধরনের দুর্নীতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বে অবহেলা বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। জনগণের খাদ্য নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না। খাদ্যগুদামকে কেন্দ্র করে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠলে তা ভেঙে দেওয়া হবে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি গুদামে জনগণের খাদ্য নিরাপদ থাকবে, মজুতের সঠিক হিসাব থাকবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় থাকতে হবে। কোনো অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের নেপথ্যে থাকা মদদদাতা ও সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
আফরোজা খানম রিতা জানান, দেশের সব সরকারি খাদ্যগুদামের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। মজুত খাদ্যশস্যের হিসাব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, কাগজে-কলমে এক ধরনের হিসাব আর বাস্তবে অন্য ধরনের মজুত—এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি খাদ্যশস্য জনগণের সম্পদ। এই সম্পদের এক কেজিও অপচয়, আত্মসাৎ বা অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জ থেকেই সরকারি খাদ্যগুদামে অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঘিওর সরকারি খাদ্যগুদামে মজুত যাচাইয়ের সময় চাল ও গমের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে।
তিনি বলেন, ঘিওরের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। দেশের অন্য সরকারি খাদ্যগুদামেও একই ধরনের অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঘিওরের ঘটনায় সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়—সরকারি খাদ্যগুদামে নয়ছয় করার দিন শেষ। দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু সরাসরি অনিয়মকারীদের নয়, এর পেছনে থাকা মদদদাতা ও সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মজুতের পাশাপাশি তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সরকারের দায়িত্ব।
তিনি জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আরও জনবান্ধব ও সেবামুখী করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি থাকবে।
সাময়িক অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ লক্ষ্যে দেশের খাদ্য পরীক্ষাগার ও ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, কোনো খাদ্যগুদামে অসঙ্গতি ধরা পড়লে সেটিকে ছোটখাটো ভুল হিসেবে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না। অনিয়ম যারই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না।
তিনি বলেন, খাদ্যগুদাম জনগণের জন্য; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। জনগণের খাদ্য নিয়ে দুর্নীতি করলে কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, আফরোজা খানম রিতা সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। ২১ আগস্ট ২০২৬ রাতে এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।














