সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত, শুক্রবার সেলস টার্গেট ও বাধ্যতামূলক বাজার কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান
শুক্রবার সেলস কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে, এটি বিক্রয় পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার: মোঃ আরিফুর রহমান
- আপডেট সময় : ০৩:০৯:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা | ২৮ আগস্ট ২০২৬ঃ শুক্রবার সেলস কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুক্রবার সেলস কার্যক্রম বন্ধ রাখা কোনো অনুরোধ নয়; এটি বিক্রয় পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বিক্রয় পেশাজীবীরা একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা, বিক্রয় ও বাজার সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। প্রতিদিনের নির্ধারিত দায়িত্বের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে কাজ, গ্রাহক ও পরিবেশকের সঙ্গে যোগাযোগ, অর্ডার সংগ্রহ, পণ্য সরবরাহ, বাজার পরিদর্শন এবং নির্ধারিত বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।
আরিফুর রহমান বলেন, সপ্তাহের নির্ধারিত ছুটির দিন শুক্রবারেও যদি সেলস কার্যক্রম চালু রাখা হয়, তাহলে বিক্রয় পেশাজীবীরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পারিবারিক সময় ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রয়োজনীয় সময় থেকে বঞ্চিত হন। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কর্মীদের কর্মস্পৃহা, মানসিক প্রশান্তি ও কর্মদক্ষতার ওপর পড়তে পারে।
তিনি বলেন, “শুক্রবার সেলস্ কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সরে আসতে হবে। অন্যথায় বিক্রয় পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আমরা সাংগঠনিক ও আইনসম্মত কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবো।”
কেন শুক্রবার সেলস কার্যক্রম বন্ধ রাখা প্রয়োজন
বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আরিফুর রহমান শুক্রবার সেলস কার্যক্রম বন্ধ রাখার পক্ষে কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছেন।
সাপ্তাহিক বিশ্রামের অধিকার:-
একজন কর্মীর নিয়মিত কর্মদিবসের পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত একটি নির্ধারিত বিশ্রামের দিন থাকা প্রয়োজন। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করা হলে বিক্রয় পেশাজীবীরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে পরবর্তী কর্মদিবসে তারা আরও সতেজ ও উদ্যমী হয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের ভারসাম্য:-
বিক্রয় পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। শুক্রবার ছুটি থাকলে তারা পরিবার, সন্তান ও সামাজিক জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারবেন।
কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি:-
পর্যাপ্ত বিশ্রাম কর্মীর কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মানসিকভাবে প্রশান্ত ও বিশ্রামপ্রাপ্ত কর্মী নতুন কর্মসপ্তাহে আরও মনোযোগ ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারেন। এতে প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও উপকৃত হবে।
ছুটির দিনে অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো:-
সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সেলস টার্গেট, অর্ডার সংগ্রহ, বাজার পরিদর্শন কিংবা অন্যান্য বাধ্যতামূলক কার্যক্রম চালু থাকলে কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। তাই সাপ্তাহিক ছুটিকে প্রকৃত অর্থেই ছুটির দিন হিসেবে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিক্রয় পেশাজীবীদের শ্রম ও মর্যাদার মূল্যায়ন:-
একজন বিক্রয় পেশাজীবী শুধু প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রি করেন না; তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন, বিতরণসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্যে তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
‘এটি কোনো অনুরোধ নয়, ন্যায্য অধিকার’
মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, “শুক্রবার সেলস্ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে—এটি কোনো দাবি বা অনুরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি বিক্রয় পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুক্রবার কোনো ধরনের বাধ্যতামূলক সেলস টার্গেট, অর্ডার সংগ্রহ, বাজার কার্যক্রম বা সেলস-সংক্রান্ত দায়িত্ব না রাখার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিক্রয় পেশাজীবীদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পারিবারিক সময় নিশ্চিত করা হলে তারা কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি উদ্যম, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন। এর সুফল কর্মীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও পাবে।
সংগঠনের আহ্বান
বাংলাদেশ বিক্রয় পেশাজীবী এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শুক্রবার সেলস কার্যক্রম বন্ধ রাখা, সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করা এবং ছুটির দিনে সেলস টার্গেট ও বাধ্যতামূলক বাজার কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিক্রয় পেশাজীবীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।














