মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় এক মাস ধরে ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগ; সিন্দুরখান রোডের মাদ্রাসা থেকে শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শ্রীমঙ্গলে ৯ বছরের মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে প্রায় এক মাস ধরে যৌন নির্যাতন ও মারধরের অভিযোগে রাকিবুল হাসান মিরাজ (১৯) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল আড়াইটার দিকে উপজেলার সিন্দুরখান রোডে অবস্থিত জামিয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাকিবুল হাসান মিরাজ শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের সুনগইড় গ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় এক মাস ধরে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। একই সময়ে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সকালে শিশুটি শিক্ষকের একটি অনৈতিক নির্দেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা। দীর্ঘদিনের নির্যাতনে শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শিশুটির অভিভাবক শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী শিশুর শরীরে নির্যাতনের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শ্রীমঙ্গল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি নম্বর ৩৩। ঘটনার অধিকতর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে, শিশুর ওপর এমন গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।














