ঝলঝলি এলাকার পুকুরে মাছ চাষ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ; ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের
পুকুরে মাছ চাষ ও আদালতের Status Quo আদেশ নিয়ে সাতখামার মাদ্রাসার অবস্থান স্পষ্ট
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বোদা (পঞ্চগড়) | ২৩ আগস্ট ২০২৬: পঞ্চগড়ের বোদা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাতখামার ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার মালিকানাধীন ঝলঝলি এলাকার একটি পুকুরে মাছ চাষ এবং আদালতের Status Quo (স্থিতাবস্থা) আদেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি পুকুরটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কয়েকটি তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ অবস্থান তুলে ধরে। একই সঙ্গে পুকুরটি নিয়ে আদালতের দেওয়া Status Quo আদেশের ব্যাখ্যাও দিয়েছে তারা।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম জানান, ২০২৩ সালে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকেই পুকুরটি নিয়ে মামলা চলমান ছিল। বর্তমানে পুকুরটির বিষয়ে মাদ্রাসার পক্ষে হাইকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের Status Quo সংক্রান্ত একটি আদেশ রয়েছে বলে তিনি জানান।
আদালতের আদেশের আইনি ব্যাখ্যা দিয়ে ব্যারিস্টার মাহমুদ আল মামুন হিমু বলেন, Status Quo বা স্থিতাবস্থা বলতে কোনো সম্পত্তি বা জায়গা যে অবস্থায় ছিল, সেই অবস্থাই বজায় রাখাকে বোঝায়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুকুরটি শুরু থেকেই মাদ্রাসার দখলে থাকলে আদালতের আদেশ অনুযায়ী সেই দখলের অবস্থান পরিবর্তন করা যাবে না।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, পুকুরটি তাদের দখলে থাকায় বর্তমান মাছ চাষের মৌসুমে সেখানে মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাছ চাষের জন্য ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। মো. রেজাউল করিমের দাবি, কোনো মাছ চাষির কাছ থেকে তিনি কোনো টাকা নেননি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, বর্তমান মাছ চাষের মৌসুম বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই মাদ্রাসার পক্ষ থেকে পুকুরে মাছ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তীতে ওই গভর্নিং বডিই সিদ্ধান্ত নেবে—মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ নিজেরা পুকুরে মাছ চাষ করবে, নাকি নিয়ম অনুযায়ী পুকুরটি ইজারা দেওয়া হবে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুকুরটি নিয়ে চলমান বিরোধের ক্ষেত্রে তারা আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে তারা।














