ভরণ-পোষণ না দেওয়া, মারধর ও গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ; থানায় মামলা, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে ছেলে
বৃদ্ধ মাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বৃদ্ধ মা কামরুন নাহারকে ভরণ-পোষণ না দেওয়া, মারধর, বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এবং গলা চেপে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছেলে মাহমুদুল কাদিরকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী মা কামরুন নাহার পীরগঞ্জ থানায় ছেলে মাহমুদুল কাদির ও তাঁর স্ত্রীকে আসামি করে মামলা করেছেন। এজাহার অনুযায়ী, আসামি মাহমুদুল কাদির ভেলাতৈর ভদ্রপাড়া গ্রামের মৃত মৌলাবকসের ছেলে। তিনি কবি-সাহিত্য পরিষদের সদস্য বলেও এজাহার-সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে কামরুন নাহার অভিযোগ করেন, তিনি বৃদ্ধ বয়সে শারীরিক ও আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর অভিযোগ, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ভরণ-পোষণ ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ বহন করেন না।
এজাহারে আরও বলা হয়, বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছেলে ও পুত্রবধূ তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করতেন। প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো। এর আগে দুইবার তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে কামরুন নাহার তাঁর মেয়ের বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
এ সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁর কাপড়চোপড় ও আসবাবপত্র বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মা এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাঁকে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ছেলে মাহমুদুল কাদির দুই হাত দিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরে একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর মাথার ডান পাশে, কানের কাছে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মারধরের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা কামরুন নাহারকে চিকিৎসার জন্য পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন প্রামাণিক জানান, কামরুন নাহার বাদী হয়ে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় ছেলে মাহমুদুল কাদিরকে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার মাহমুদুল কাদিরকে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে মামলায় করা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে মামলার অপর আসামির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।














