রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও যানজটপ্রবণ এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ড্রোন দিয়ে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করবে ডিএমপি; ভবিষ্যতে ANPR যুক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার পরিকল্পনা
যানজট কমাতে ঢাকার আকাশে উড়বে ডিএমপির ড্রোন
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্যামেরার পর এবার ড্রোন সার্ভিলেন্স চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোন ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, ড্রোনের মাধ্যমে যানজটের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা গেলে কোথায় কী কারণে যানজট তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে তৈরি হওয়া যানজটের কারণ শনাক্তে এ প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে।
ডিএমপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ড্রোনে ভবিষ্যতে অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিকগনিশন (ANPR) প্রযুক্তি যুক্ত করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ড্রোনের ধারণ করা ভিডিও থেকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে ভিডিও মামলা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বর্তমানে ড্রোনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
শুধু নজরদারি নয়, ড্রোনে ভয়েস বা শব্দের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো যানবাহন যানজট সৃষ্টি করলে বা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে চালককে সরাসরি সতর্ক করা যাবে। অর্থাৎ ড্রোন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির চালককে সরে যেতে বা আইন মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে।
ডিএমপি বলছে, ড্রোন সার্ভিলেন্স এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে একটি ড্রোন দিয়েছে এবং সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সফল হলে দ্রুত মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরীক্ষায় কোনো নেতিবাচক দিক বা বড় ধরনের সমস্যা পাওয়া গেলে প্রযুক্তিটি চালু না করার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ড্রোনের মাধ্যমে সরাসরি রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়া সম্ভব হলেও এর জন্য প্রয়োজন হবে উপযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ, সার্ভার ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো। এ ব্যবস্থায় নিয়মিত ডেটা আদান-প্রদানের কারণে পরিচালন ব্যয়ও থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান ঢাকার যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বাসের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, অনেক বাস নির্ধারিত স্টপেজে না থেমে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় পেছনের যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত যানজট তৈরি হয়।
তিনি মনে করেন, বাস পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ও বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। উন্নত দেশগুলোর মতো নির্দিষ্ট সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনার আওতায় বাস পরিচালনা করা গেলে যাত্রী সংগ্রহে বাসগুলোর পারস্পরিক প্রতিযোগিতা কমবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বাড়বে।
ড্রোন পরিচালনা কারিগরি বিষয় হওয়ায় ডিএমপি সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগে একটি দল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। পরবর্তী ধাপে উত্তরা বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ড্রোন যুক্ত করার উদ্যোগটি ডিএমপির প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক অংশ। এর আগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে AI-powered traffic surveillance চালু করা হয়েছে। জুনের শেষ নাগাদ ডিএমপি জানিয়েছিল, AI ক্যামেরার মাধ্যমে প্রায় ১,৫০০ ট্রাফিক লঙ্ঘনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাইয়ে ডিএমপি কম খরচে আরও বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে প্রায় ১,০০০ ‘plug-and-play’ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
ডিএমপি বলছে, প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য বেশি মামলা করা নয়; বরং চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করা এবং রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। ড্রোন সার্ভিলেন্সের ক্ষেত্রেও পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্র: বাসস














