আইইবির ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে স্ত্রী-সন্তানের সামনে অপমান ও হুমকির অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি ভুক্তভোগীর
আইইবিতে পরিবারসহ জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬: ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের সামনে জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বী রনিকে লাঞ্ছনা, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম ও সুজাউদ্দিন সুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী প্রকৌশলী।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আইইবির ইআরসি ফ্যামিলি লাউঞ্জে গেলে সেখানে উপস্থিত নজরুল ইসলাম তাঁদের সঙ্গে অযাচিত ও অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। রনির দাবি, তিনি নিজেকে আইইবি ঢাকা সেন্টারের কাউন্সিল মেম্বার হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় রনি তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এরপর ওই আচরণের প্রতিবাদ করলে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, তাঁকে উদ্দেশ করে ‘আগামীকালের মধ্যে তোকে খেয়ে ফেলবো’—এ ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে সুজাউদ্দিন সুজন নামের আরেক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সুজাউদ্দিন প্রকাশ্যে তাঁকে ‘থাপ্পড় দিয়ে দাঁত খুলে ফেলার’ হুমকি দেন।
ঘটনার সময় নজরুল ইসলাম নিজেকে ‘এ্যাব’-এর সদস্য সচিব শোয়েব বাঁশরী হাবলুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ফজলে রাব্বী রনি।
রনির অভিযোগ, নজরুল ইসলাম নিজেকে শোয়েব বাঁশরী হাবলুর ‘গুরু ও বড়ভাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সংগঠনের ওপর নিজের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম, সুজাউদ্দিন সুজন ও শোয়েব বাঁশরী হাবলুর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী প্রকৌশলী। তবে ওই সালিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রনির অভিযোগ, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অনুষ্ঠেয় সালিশে এমন কয়েকজনকে রাখা হয়েছে, যাঁদের সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণে তিনি পক্ষপাতহীন বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য নিরপেক্ষ ও জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মুছে ফেলার চাপের অভিযোগ
এদিকে ঘটনার বিচার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট সরিয়ে নিতে তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও
অভিযোগ করেছেন ফজলে রাব্বী রনি।
তাঁর দাবি, শাহাদাত মাছুম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ওই পোস্ট মুছে ফেলার জন্য তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় নিজের পাশাপাশি স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিন দফা দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—
১. ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে নজরুল ইসলাম ও সুজাউদ্দিন সুজনের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত ও পক্ষপাতহীন তদন্ত এবং বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট মুছে ফেলতে চাপ বা হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।
ইঞ্জিনিয়ার ফজলে রাব্বী রনি বলেন, পেশাজীবী সংগঠনের দীর্ঘদিনের একজন সক্রিয় কর্মী ও কর্মকর্তা হিসেবে পরিবার নিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক লাউঞ্জে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও উদ্বেগজনক। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম, সুজাউদ্দিন সুজন, শোয়েব বাঁশরী হাবলু ও শাহাদাত মাছুমের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।














