নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুরে গোপাই গ্রামের বাড়িতে ভোররাতে লাইলি বেগমকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ছেলে সৌরভ হোসেন ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
নোয়াখালীতে নারীকে গলাকেটে হত্যা, ছেলে ও শাশুড়ি গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:৩০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুরে লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর রাতে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই গ্রামের আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। আলমগীর হোসেন স্থানীয়ভাবে গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন মাদকাসক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কী কারণে লাইলি বেগমকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি তার দাদি তফুরা বেগমকে জানান।
তফুরা বেগম ঘরে গিয়ে লাইলি বেগমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পুলিশের সুরতহাল ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও জখমের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া তার বাম হাতের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেয় পুলিশ। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছিল। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে লাইলি বেগম হত্যার প্রকৃত কারণ, হত্যায় কার কী ভূমিকা ছিল এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য আরও পরিষ্কার হবে।














