১৯৯৩ সালে সরকারীকরণের প্রতিশ্রুতির দাবি, ৩৩ বছরেও হয়নি বাস্তবায়ন; ১২ শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে চাপ
খালেদা জিয়ার প্রতিশ্রুতির ৩৩ বছর, এখনও সরকারীকরণ হয়নি কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) | ১১ আগস্ট ২০২৬:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার নারী শিক্ষার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখনও সরকারি বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া সরকারীকরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদী সফরকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. কামাল সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়নি।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে সরকারীকরণের বিষয়টি ঝুলে থাকায় শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। তাদের প্রত্যাশা, অতীতের প্রতিশ্রুতির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নারী শিক্ষায় দীর্ঘ পথচলা:
১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়টি ১৯৮১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়া, সংস্কৃতি, বিতর্ক ও বিজ্ঞানচর্চায়ও সাফল্য অর্জন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকে প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, বিচার বিভাগ ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
শিক্ষক সংকটে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম:
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট ২৬টি শিক্ষক পদের বিপরীতে ১২টি পদ শূন্য রয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য। শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হলে শূন্য পদ পূরণসহ শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়টির নিজস্ব প্রায় ১ একর ৯৩ শতাংশ জমি রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো থাকার পরও সরকারীকরণের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে সম্পন্ন না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের জন্য বাড়বে সুযোগ:
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ করা হলে কটিয়াদীর দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে। পাশাপাশি সরকারি অর্থায়নে আধুনিক বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, একাডেমিক ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অভিভাবক মোহাম্মদ মতিউর রহমান কাজল ও সাবেক প্রধান শিক্ষক সুজিত কুমার সাহা বলেন, কটিয়াদীর অন্য একটি পাইলট বিদ্যালয় ইতোমধ্যে সরকারীকরণ হয়েছে। নারী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটিও দ্রুত সরকারীকরণের আওতায় আনা প্রয়োজন।
‘সরকারীকরণের নথিপত্র এখনও সংরক্ষিত’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালাহ উদ্দিন ভূঞা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আরিফুর রহমান কাঞ্চন জানান, বিদ্যালয় সরকারীকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র এখনও সংরক্ষিত রয়েছে। তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের পরও দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াটি আটকে থাকা দুঃখজনক।
তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনও বিষয়টির দীর্ঘসূত্রতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
অবিলম্বে সরকারীকরণের দাবি
স্থানীয়দের মতে, কটিয়াদী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি কটিয়াদী অঞ্চলের নারী শিক্ষার দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তাই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক সংকট দূর করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার মান আরও বাড়াতে দ্রুত সরকারীকরণ প্রয়োজন।
তাদের দাবি, ১৯৯৩ সালে সরকারীকরণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র যাচাই করে বর্তমান বাস্তবতা ও সরকারি নীতিমালার আলোকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
কটিয়াদীবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং নারী শিক্ষার এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেবে।














