অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলন ও সন্তোষজনক বাজারদরে রাজিবপুরের কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে পাট চাষের আগ্রহ
সোনালী আঁশে ফিরছে সুদিন: রাজিবপুরে বাম্পার পাট ফলনে কৃষকের মুখে হাসি, বাড়ছে আবাদ ও লাভের আশা
- আপডেট সময় : ০১:০৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১১০ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রাম, রাজিবপুর | ৪ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাট, যা ‘সোনালী আঁশ’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, আবারও দেশের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাজারে সন্তোষজনক মূল্য পাওয়ায় কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রাজিবপুর উপজেলার কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। চলতি খরিফ মৌসুমে উপজেলায় বাম্পার পাট ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে রাজিবপুর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৬৫৫ থেকে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়ে আসছে। চলতি মৌসুমেও প্রায় একই পরিমাণ জমিতে তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত, উন্নত কৃষি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষকদের নিয়মিত পরিচর্যার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আশানুরূপ ফলন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌফিক আল জুবায়ের বলেন, “এ বছর রাজিবপুর উপজেলায় ব্যাপক পরিমাণে তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষ হয়েছে। ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের বড়বের, মধ্যেচর, শিকারপুর, ভেলামারি, কাদেরচর ও কোদালকাটি এলাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে তারা উৎসাহিত হবেন বলে আশা করছি।”
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পাটের ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভ করতে পারায় কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি বিরাজ করছে। বাপজারে পাটের চাহিদা ও মূল্য ভালো থাকায় ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় অনেকেই পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, পাট শুধু একটি অর্থকরী ফসল নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। সরকার যদি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য রাখে, তবে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাটের আবাদ করা সম্ভব হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশের পাট শিল্পের সম্ভাবনাও নতুন করে উজ্জ্বল হয়েছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ খাত।
রাজিবপুরের কৃষকদের এবারের সাফল্য প্রমাণ করেছে, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি বিভাগের কার্যকর পরামর্শ, উন্নত বীজ এবং অনুকূল আবহাওয়া নিশ্চিত করা গেলে ‘সোনালী আঁশ’ আবারও দেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।














