ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে দ্বন্দ্ব, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ: ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র এবং খুলনা বিভাগের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে নোটিশ টানিয়ে এ ঘোষণা দেয়। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনের পরিবারের নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (জয়েন্ট স্টক) সংশ্লিষ্ট নথির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রেজারার মো. আলীম উদ্দিন লস্কর ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব বুঝে নিতে উদ্যোগী হয়েছে।
এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ও বুধবার উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আলীম লস্করপন্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে রেজিস্ট্রারের কক্ষসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে সেগুলো খুলে দেওয়া হয়।
আলীম লস্করপক্ষের দাবি, ২০১৪ সালে যথাযথ আইনগত ভিত্তি ছাড়াই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয় এবং সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনের পরিবারের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে জয়েন্ট স্টকের অনুমোদনক্রমে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে মো. আলীম উদ্দিন লস্করকে চেয়ারম্যান, আব্দুর রাজ্জাককে সেক্রেটারি এবং তানভীর হুদাকে ট্রেজারার মনোনীত করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মিত নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অননুমোদিত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার শান্তর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। এদিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।














