ডেঙ্গুতে প্রাণ হারানো পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরদিন প্রকাশিত হলো বৃত্তির ফল, শোকে কাঁদলেন শিক্ষক-অভিভাবক
ডেঙ্গুতে মৃত্যুর পরদিন প্রকাশিত ফলে বৃত্তি পেল মেধাবী শিক্ষার্থী মিজান, শোকে স্তব্ধ লক্ষ্মীপুর
- আপডেট সময় : ০৩:২০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর | ১৫ জুলাই ২০২৬:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার লামচর ইউনিয়নের পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান (১১) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পরদিন প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। আনন্দের এ সংবাদ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয় পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর কাছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় পানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ফলাফলে বিদ্যালয়ের শতভাগ সফলতা আসে। এর মধ্যে ৬ জন ট্যালেন্টপুল এবং ৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান (রোল নম্বর: ৪০৬১৭৬৬) সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল হান্নান জানান, ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা আনন্দিত হওয়ার পরিবর্তে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ, যে শিক্ষার্থীর সাফল্য উদযাপন করার কথা ছিল, সে আর পৃথিবীতে নেই।
তিনি আরও জানান, বৃত্তি পাওয়ার খবরটি জানাতে তিনি, সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক মিজানের বাড়িতে যান। সেখানে মিজানের বাবা মো. রাছেল মিয়া ও মা আকলিমা আক্তার আঁখি শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে।
মিজানের বাবা মো. রাছেল মিয়া জানান, কয়েকদিন ধরে ছেলের জ্বর ছিল। পরে দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক প্রসাবে সংক্রমণ ও রক্তস্বল্পতার কথা জানান। পরবর্তীতে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ জুলাই ঢাকায় নেওয়ার পথে গৌরিপুর এলাকায় সকাল ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, “মিজান ছিল অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও সম্ভাবনাময় একজন শিক্ষার্থী। তার অকাল মৃত্যুতে শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইমরান হোসেন জানান, ফল প্রকাশের পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান মৃত শিক্ষার্থী মিজানের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
ডেঙ্গুর মতো প্রাণঘাতী রোগে একটি সম্ভাবনাময় শিশুর মৃত্যু এবং মৃত্যুর পরদিন তার বৃত্তি লাভের সংবাদ লক্ষ্মীপুরসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।














