উজানে বৃষ্টি কমায় স্বস্তি, ৩৫ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন; ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত
মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বিপদসীমার নিচে নদীর পানি; আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন দুর্গত মানুষ
- আপডেট সময় : ০৪:০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৬৪ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার | ১২ জুলাই ২০২৬: উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জেলার মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়া অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবারসহ ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে ৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও বন্যার সময় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৪ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে পানি কমে যাওয়ায় অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্র খালি হতে শুরু করেছে।
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও একামধু এলাকায় মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকরিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়। প্রবল স্রোতে বন্যার পানি দ্রুত নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাজনগর উপজেলার টেংরা, মনসুরনগর ও রাজনগর সদর ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম এবং কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রাম। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। তলিয়ে যায় অসংখ্য বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক এবং ফসলি জমি।
প্লাবিত এলাকার মধ্যে রয়েছে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পণ্ডিতনগর, আকুয়া, সৈয়দনগর, টগরপুর, কোনাগাঁও, ভাঙ্গারহাট, আদিনাবাদ, পাইকপাড়া, নওয়াগাঁও ও গণেশপুর; মনসুরনগর ইউনিয়নের শ্বাসমহল, বকসীকোনা, মালিকোনা, প্রেমনগর ও গোবিন্দশ্রী; এবং রাজনগর সদর ইউনিয়নের গয়ঘর, ডলা, মহাসহস্র ও দত্তগ্রাম।
বন্যার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে রাজনগরের টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের আশরাফ আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর শুক্রবার সকালে মনু নদীর রিং বাঁধসংলগ্ন এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। তবে উজানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নদ-নদীর পানি এখন দ্রুত কমছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পথে।
তিনি আরও জানান, ধলাই নদীর একটি ভাঙনস্থল সংস্কারে ভারতের আপত্তি থাকলেও জেলার বিভিন্ন নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের প্রস্তুতি রয়েছে।
বর্তমানে নদীর পানি কমে যাওয়ায় দুর্গত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নিরূপণে প্রশাসন কাজ করছে। পাশাপাশি পুনর্বাসন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।





















