টানা বর্ষণে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে হাঁটুসমান পানি; ড্রেনেজ সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়: অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত, চরম দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ | ৯ জুলাই ২০২৬: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের ফলে কটিয়াদী সরকারি পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, মাঠ ও প্রবেশপথ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শুধু এই বিদ্যালয়ই নয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলার আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠ সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত। মাঠের পানি উপচে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও পাশের মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। নোংরা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার টানা বর্ষণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে মশার উপদ্রব বেড়ে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এখনও পানি জমে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, নিম্ন আয়ের পরিবার ও পোশাকশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সাংবাদিক হামিদ হাসান বলেন, “পরীক্ষার জন্য সকালে সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলাম। কিন্তু রাস্তা ও বিদ্যালয়জুড়ে পানি থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের কারণে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”
কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার মানসিক চাপের মধ্যেই বৈরী আবহাওয়া তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভিজে কাপড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ বলেন, “টানা বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কক্ষ ও মাঠে পানি জমে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চলমান অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ বাস্তবায়ন করা জরুরি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা দূর করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।














