মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড; কচুরিপানার নিচে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত আটক, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা
মৌলভীবাজারে শুঁটকি ব্যবসায়ীকে হত্যা করে বাথরুমে বস্তাবন্দী: কচুরিপানার নিচ থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, উদ্ধার রক্তমাখা দা
- আপডেট সময় : ০৩:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬ ৭১ বার পড়া হয়েছে

মৌলভীবাজার | ৮ জুলাই ২০২৬ : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নে এক শুঁটকি ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাথরুমে বস্তাবন্দী করে রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্তকে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত আব্দুল আজিজ (৩২) সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল এলাকার শামসুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন শুঁটকি ব্যবসায়ী ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া সোলেমান মিয়া (৫০) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের মৃত আমান উল্লাহর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে খলিলপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামের সুবাহান হাজীর বাড়ির বাথরুমে একটি বস্তাবন্দী মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুম থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল আজিজের মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সোলেমান মিয়া পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবার কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোলেমান মিয়া ধারালো দা দিয়ে আব্দুল আজিজকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তার দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে খলিলপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।














