নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ
রাজশাহীতে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতার আহ্বান জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের
- আপডেট সময় : ০৭:০০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী | ৭ জুলাই ২০২৬: নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সাংবিধানিক ও মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, একটি সভ্য, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনের প্রধান পূর্বশর্ত হলো নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তারা শুধু একটি পরিবারের সদস্য নন, বরং রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভিত্তি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি শিশু রামিসার মতো নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার সামাজিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিচার চাইতে ভয় পায়। তবে সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিচার সম্পন্নের নজির স্থাপন করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন, মানবপাচার প্রতিরোধ আইন এবং অ্যাসিড সন্ত্রাস দমন আইনের মতো কঠোর আইন রয়েছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগ করেই এ ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব নয়। সামাজিক প্রতিরোধ, পারিবারিক সচেতনতা এবং অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কটের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, যৌথ পরিবারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিশুদের পর্যবেক্ষণ ও সঠিক দিকনির্দেশনা অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল আসক্তি এবং মাদকের বিস্তার শিশু-কিশোরদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। সামাজিক সম্মানের ভয়ে নির্যাতনের ঘটনা গোপন না রেখে দ্রুত প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহ. আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।














