সাড়ে ৫৫০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে রাজশাহীতে নদী সংরক্ষণে সচেতনতামূলক দৌড়, আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিও উচ্চারিত
পদ্মা নদী রক্ষায় রাজশাহীতে ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথন, নদী বাঁচাতে জনসচেতনতার জোরালো আহ্বান
- আপডেট সময় : ০২:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহী | ৩ জুলাই ২০২৬ : ঐতিহাসিক পদ্মা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী রক্ষা, নাব্যতা সংকট দূরীকরণ, নদীদখল ও দূষণ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক অভিন্ন নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রান ফর পদ্মা’ শীর্ষক একটি মিনি ম্যারাথন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টায় রাজশাহী নগরের লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সচেতনতামূলক ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রান ফর পদ্মা’ শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি নদী রক্ষায় জনসচেতনতা গড়ে তোলার একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন।
তিনি বলেন, সম্মিলিত সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পদ্মাসহ দেশের সব নদ-নদীকে রক্ষা করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত নদী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী সকল প্রতিযোগীকে শুভেচ্ছা জানান এবং এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
মিনি ম্যারাথনটি লালনশাহ মুক্তমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ফুড অফিস মোড় ঘুরে পুনরায় মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। প্রায় সাড়ে ৫৫০ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৩৫ জন নারী অংশগ্রহণকারী ছিলেন, যা নারী অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রান ফর পদ্মা’ মিনি ম্যারাথনের উপদেষ্টা ও সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক লিয়াকত আলী, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, উপদেষ্টা রিক্তা পারভীন, আহ্বায়ক মো. জুলফিকার আলী হায়দার, যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন বিন মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম সানি এবং আয়োজক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
আয়োজকদের ভাষ্য, ‘রান ফর পদ্মা’ শুধু রাজশাহীর একটি আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের নদী, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার আন্দোলনের অংশ। পদ্মাসহ দেশের নদ-নদী সংরক্ষণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নদী রক্ষার বিষয়টি শুধু পরিবেশগত নয়; কৃষি, জীববৈচিত্র্য, জনজীবন ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গেও এটি গভীরভাবে জড়িত। তাই তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের মানুষকে নদী রক্ষার আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এই মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়েছে।














