ব্যবহারে পরিবর্তন না থাকলেও জুন মাসে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বিল বৃদ্ধি; তদন্ত ও স্বচ্ছতার দাবি গ্রাহকদের
ঈদগাঁওয়ে জুন মাসে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ, চরম বিপাকে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা
- আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

ঈদগাঁও,কক্সবাজার | ২ জুলাই ২০২৬: কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অসংখ্য গ্রাহক। ব্যবহারের তুলনায় অতিরিক্ত বিল আসায় সাধারণ গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে অসন্তোষ, উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঈদগাঁও জোনাল অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল আগের মাসগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহারে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রাহক জানান, এপ্রিল মাসে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ছিল ৪৮৫ টাকা, মে মাসে ৫৫১ টাকা এবং জুন মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৬ টাকায়। একই বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও বিল কেন এত বেড়েছে, তার কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঈদগাঁওয়ের রাসেল নামে এক কুলিং কর্নারের ব্যবসায়ী জানান, তাঁর ছোট দোকানে মে মাসে বিদ্যুৎ বিল ছিল ১ হাজার ৪০ টাকা। জুন মাসে সেই বিল বেড়ে ১ হাজার ৬৩০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মাইজপাড়া এলাকার আরেক গ্রাহক জানান, মে মাসে তাঁর বাসার বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় ৮০০ টাকা। জুন মাসে তা বেড়ে ১ হাজার ৬৩০ টাকায় পৌঁছেছে, যা তাঁর জন্য অপ্রত্যাশিত।
ঈদগাঁও নিউ মার্কেটের ফ্যাশন গ্যালারির স্বত্বাধিকারী মফিজুর রহমান জানান, মে মাসে তাঁর দোকানের বিদ্যুৎ বিল ছিল ৬ হাজার ৫০০ টাকা। জুন মাসে সেটি বেড়ে ১০ হাজার ৭৭৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, এত বড় অঙ্কের বিল ব্যবসায়িকভাবে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, মোহাম্মদ ইসমাইল নামে এক গ্রাহক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কার্যক্রমে সাধারণ গ্রাহকরা অত্যন্ত হতাশ ও মর্মাহত।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক ও জনসেবামূলক খাত। তাই বিল নির্ধারণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে আলোচনার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঈদগাঁও জোনাল অফিসের নির্ধারিত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।














