আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগ; উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জায়গা দখলের অভিযোগ: আদালতে মামলা চলাকালে টিনশেড দোকান ভেঙে পাকা ভবন নির্মাণের দাবি
- আপডেট সময় : ০৭:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৭৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়াপাড়া গ্রামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তির ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে টিনশেড দোকান ভেঙে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী রতন মিয়ার দাবি, তিনি ২০১২ ও ২০১৪ সালে স্থানীয় আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে দুই দফায় মোট ৬ শতক জমি ক্রয় করেন। জমির দলিল নম্বর ১৪০৬/২০১২ ও ১৫৭৫/২০১৪। সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান নম্বর ৭৭০, দাগ নম্বর ১৭০৭, ১৮৪৫ ও ৮০০৪, মৌজা-জামালগঞ্জ, জেএল নম্বর-৮৮ এবং আরএস-৬৬।
রতন মিয়া জানান, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তিনি জমিটি ভোগদখলে রেখে সেখানে একটি টিনশেড দোকান নির্মাণ করেন। দোকানটি স্থানীয় বাবুল মিয়ার কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
তার অভিযোগ, সম্প্রতি দুবাই প্রবাসী হাবিব মিয়া ও তার সহোদর শহিবুর, হাসান মিয়া, জহুর মিয়া, আসলাম মিয়া এবং আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন ওই জমি নিজেদের দাবি করে টিনশেড দোকানটি ভেঙে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে জমির দখল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। রতন মিয়া নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা হওয়ায় এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী না হওয়ায় তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াসিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখে আসছি যে জায়গাটি রতন মিয়ার দখলে ছিল। সেখানে একটি টিনশেড দোকান ছিল এবং সেটি ভাড়াও দেওয়া হয়েছিল। এখন দোকানটি ভেঙে সেখানে পাকা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।”
দোকানের ভাড়াটিয়া বাবুল মিয়া বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রতন মিয়ার কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেছি। এখন দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। হাবিব মিয়া এই জমি তার বলে দাবি করছেন।”
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী মিয়া বলেন, লিগ্যাল এইড অফিস, সুনামগঞ্জ থেকে নোটিশ পাওয়ার পর উভয় পক্ষকে তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ভর করবে।














